ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান: ৬০ পিস চায়না রিং ও ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান: ৬০ পিস চায়না রিং ও ৫ হাজার মিটার কারেন্ট  জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান: ৬০ পিস চায়না রিং ও ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

শাহরাস্তি (চাঁদপুর):থেকে মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াঃ শাহরাস্তির ডাকাতিয়া নদীতে অবৈধভাবে চায়না রিং জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে ছোট মাছ নিধনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় নদী থেকে ৬০ পিস অবৈধ চায়না রিং জাল এবং ৫ হাজার ফুট কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
​স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।রবিবার (১৮ অক্টোবর) শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া ব্রিজ থেকে ছিকুটিয়া ব্রিজ পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর পশ্চিম অংশে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শাহরাস্তি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।অভিযানে উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম এবং শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজিমউদ্দিন ও সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এবং অবৈধ জালের ব্যবহার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরের মতলবে যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান: ৬০ পিস চায়না রিং ও ৫ হাজার মিটার কারেন্ট  জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

চাঁদপুরের মতলবে যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানবিক দায়িত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদ মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার উদ্যোগে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী অর্ধশত সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

​১৮ অক্টোবর দুপুরে মতলব উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের আয়োজনে শ্রী শ্রী কালীবাড়ী মন্দিরে এই বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক অমরেশ দত্ত জয় বলেন, সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিবর্গের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হলো সুবিধাবঞ্চিত ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করতে অর্থাৎ সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনতে এবং উৎসব বা দুর্যোগের মুহূর্তে সবার মুখে হাসি ফোটাতে সেক্ষেত্রে বস্ত্র বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটা সবার মাঝে আনন্দ বা উৎসবের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিতে কার্যকরি পদক্ষেপ। মতলব দক্ষিণে যুব ঐক্য পরিষদের এমন চমৎকার আয়োজনে এসে আমি সত্যিই খুবই অভিভূত। নতুন বস্ত্র পেয়ে এখানে সবার মুখের হাসি দেখে আমার দারুণ লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে যারা বস্ত্র পেলেন। সবাই সমাজের প্রকৃত অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে পাওয়ার যোগ্য। সবার উদ্দ্যেশ্যে একটা কথা বলতে চাই, তা হলো নিজেদের অধিকার আদায়ে সবাই যার যার অবস্থান থেকে সংগঠনমুখী হউন। এতে করে সবাই এক প্লাটফর্মে এসে নিজেদের দাবীগুলো সরকার, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট স্থানে উত্থাপিত করতে সুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে যুব ঐক্য পরিষদ একটি শক্তিশালী সংগঠন। আপনারা সবাই আমাদের জন্য আশির্বাদ করবেন যাতে করে আমরা ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে আপনার জন্য মানবিক সেবা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সমীর ভট্টাচার্য্য বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে শাড়ি লুঙ্গি নিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে যেন একইভাবে আপনাদের পাশে থাকতে পারি, সেজন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন। যারা আমাদের এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শারদীয় দূর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

মতলব দক্ষিণ যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব চন্দন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উত্তম সরকার, মতলব প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক মোশারফ হোসেন তালুকদার, মতলব পৌর যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সঞ্জয় সাহা, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত সাহা, সুষন ভট্টাচার্য্য, উপাদী উত্তর ইউনিয়ন যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সুখরঞ্জন কর্মকার।

​এ সময় উপস্থিত ছিলেন মতলব কালীবাড়ী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্যামল ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক সুজন ভট্টাচার্য্য, দৈনিক কালবেলার মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি মো. আল আমিন ভূঁইয়া,মতলব উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সুমন সরকার, মতলবের সাংবাদিক আজিজুল হক দিপু, সফিকুল ইসলাম রিংকু, সাইফুল ইসলাম সবুজসহ যুব ঐক্য পরিষদের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শাহরাস্তির মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান: ৬০ পিস চায়না রিং ও ৫ হাজার মিটার কারেন্ট  জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

শাহরাস্তির মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

শাহরাস্তি থেকে মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াঃ শাহরাস্তি উপজেলার চিতুষি পূর্ব ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হলেও এখানে মোট শিক্ষকের অনুমোদিত পদ মাত্র আটটি। এর মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে তিনটি পদই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়েই জোড়াতালি দিয়ে চলছে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম। অথচ বিদ্যালয়টিতে মনিপুর ও খিতারপাড়সহ আশপাশের গ্রামের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে।
​সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে আটটি শ্রেণির ক্লাস পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর ও দুরূহ হয়ে পড়েছে। পাঠদান চালিয়ে যেতে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত গুণগত শিক্ষা অর্জন ব্যাহত হবে এবং পড়ালেখার মান মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাবে।
​স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর এমন শিক্ষক সংকট কোনোভাবেই কাম্য নয়।শিক্ষক ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, চলমান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে এই বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা হলে শিক্ষক ও শিক্ষার ঘাটতি দূর হবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।

শাহরাস্তিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, বাজার দরে অস্থিরতা: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

ডাকাতিয়া নদীতে অভিযান: ৬০ পিস চায়না রিং ও ৫ হাজার মিটার কারেন্ট  জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

শাহরাস্তিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, বাজার দরে অস্থিরতা: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

শাহরাস্তি থেকে মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াঃ শাহরাস্তিতে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি এবং বিক্রি হচ্ছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে এসব অনিয়ম, যার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
​স্থানীয় বেকারিগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উৎপাদিত বিস্কুট, কেক ও অন্যান্য সামগ্রীর প্যাকেটে উৎপাদন এবং মেয়াদোত্তীর্ণের কোনো তারিখ উল্লেখ ছাড়াই অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। শিশুসহ সব বয়সী মানুষ এসব মেয়াদহীন পণ্য খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
​এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক এক দোকানে একই পণ্যের এক এক রকম মূল্য রাখা হচ্ছে। সঠিক মূল্যতালিকা প্রদর্শন বা সরকার নির্ধারিত দামের কোনো তোয়াক্কা করছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা, ফলে ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।
​অন্যদিকে, বাজারে বিক্রি হওয়া কাঁচা কলা রহস্যজনকভাবে খুব দ্রুত পেকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসাধু চক্র অতিরিক্ত রাসায়নিক বা কেমিক্যাল দিয়ে কৃত্রিমভাবে এসব ফল পাকাচ্ছে। এসব বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত ফল খেয়ে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়লেও তা দেখার বা তদারকি করার যেন কেউ নেই।
​জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।