শাহরাস্তিতে তিন সিআর পরোয়ানায় এক আসামি গ্রেপ্তার

শাহরাস্তিতে তিন সিআর পরোয়ানায় এক আসামি গ্রেপ্তার

শাহরাস্তিতে তিন সিআর পরোয়ানায় এক আসামি গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি,শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে তিনটি সিআর (সিআর) মামলার পরোয়ানাভুক্ত হারেস আলী রাসেল নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হারেস আলী রাসেল শাহরাস্তি উপজেলার উত্তর ঠাকুর বাজার (বালুর মাঠ) এলাকার বাসিন্দা। তিনি তাজ ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির স্বত্বাধিকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রেস রিলিজে জানানো হয়, শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই মো. খায়রুল আলম, এএসআই মো. মনিরুল হক, এএসআই আলমগীর কবির ও এএসআই আনোয়ারুল কবিরসহ পুলিশের একটি দল ২৫ সেপ্টেম্বর থানার আওতাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে তিনটি সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত হারেস আলী রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, তাঁর বিরুদ্ধে সিআর-৮০৬/২৫, সিআর-৮০৭/২৫ ও সিআর-৮০৫/২৫ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ।

পুলিশ বলছে, আদালতের পরোয়ানা কার্যকর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে মামলাগুলোর অভিযোগ ও এর পেছনের বিস্তারিত বিষয় আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

শাহরাস্তিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত; ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুযোগ নেই’—আয়েত আলী ভূঁইয়া

শাহরাস্তিতে তিন সিআর পরোয়ানায় এক আসামি গ্রেপ্তার

শাহরাস্তিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত; ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুযোগ নেই’—আয়েত আলী ভূঁইয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির আগে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভা শেষে কালিয়াপাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে দোয়াভাঙ্গা পর্যন্ত যায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে কর্মসূচি শেষ হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, দলের ভেতরে গুপ্তভাবে থাকা ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের লুকিয়ে থাকা লোকেরা’ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের তৎপরতা প্রতিহত করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দলের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা প্রচারণা চালায়, তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড করা যাবে না। দল পরিচালনা করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, মিছিলে কোনো হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পালন করতে হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে নেতা-কর্মীদের বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখেন, শাহরাস্তি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন নয়ন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজী।

বক্তারা দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে দলের ভেতরে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা প্রকাশ্য বিরোধে না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক ও রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সেলিম পাটোয়ারী লিটন।

আলোচনা সভায় শাহরাস্তি পৌর বিএনপির আহ্বায়কসহ উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ও উপজেলা এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডবিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে নেতা-কর্মীরা কালিয়াপাড়া এলাকায় সমবেত হন। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে দোয়াভাঙ্গার দিকে এগিয়ে যায়। মিছিল চলাকালে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে দোয়াভাঙ্গায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় নেতাদের বক্তব্য ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শাহরাস্তি বিএনপির পক্ষ থেকে মূলত দুটি বিষয় সামনে আসে—দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশে উসকানিমূলক বা হিংসাত্মক বক্তব্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়।
এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহরাস্তিতে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়।

চেড়িয়ারা কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত; নতুন স্বপ্নের পথে ১৪২ নবীন, চেড়িয়ারা কলেজে শিক্ষার সঙ্গে মানুষ হওয়ার আহ্বান

শাহরাস্তিতে তিন সিআর পরোয়ানায় এক আসামি গ্রেপ্তার

চেড়িয়ারা কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত; নতুন স্বপ্নের পথে ১৪২ নবীন, চেড়িয়ারা কলেজে শিক্ষার সঙ্গে মানুষ হওয়ার আহ্বান

মেধা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চায় নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ—মাদক, নেশা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান

মোঃ রুহুল আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : ‘এসো হে নবীন, এসো হে দ্বারে, নবযুগ ডাকছে তোমারে’—এই স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছিল চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অডিটোরিয়াম। দীর্ঘ বিদ্যালয়জীবন পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের নতুন অধ্যায়ে পা রাখা ১৪২ শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। তবে অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিক নবীন বরণে সীমাবদ্ধ ছিল না; বক্তাদের কথায় উঠে আসে পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার প্রত্যাশা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তির চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অডিটোরিয়ামে ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির উদ্বোধনী ক্লাস ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং কলেজ শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম। অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মো. শাহ্ জামাল ও শিক্ষিকা সোনিয়া আক্তার।

প্রধান অতিথি মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রয়োজনে তাঁর পক্ষ থেকে সহযোগিতার সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিজেদের জীবন, পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার মতো যোগ্যতা অর্জন করাই হওয়া উচিত তাদের লক্ষ্য।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। একে একে নবীন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

স্বাগত বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ১৪২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন মহলের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। কলেজ পরিচালনায় সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যক্ষ আরও জানান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে কলেজটির শিক্ষার্থীরা ফলাফলের দিক থেকে ১২তম অবস্থান অর্জন করেছে। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ধামরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস হোসেন বলেন, মেধা থাকলেই সাফল্য আসে না; মেধাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন নিয়মিত চর্চা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। শিক্ষার্থীদের এখন পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের যোগ্য করে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বর্ণিত অনুষ্ঠানে সাবেক সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাইরে সময় না কাটায়, সেদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

সাবেক বৃহত্তর সূচিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আবদুল মান্নান ষষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাদক ও অন্যান্য নেশা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। কলেজ ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. তাফাজ্জল হোসেন মিয়াজি বলেন, আগের বছরের ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নিয়মিত পড়াশোনা ও শৃঙ্খলার বিকল্প নেই।

নবীনদের উদ্দেশে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে হাফসা লামিয়া ও মাহফুজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। তাঁরা নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে কলেজজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

সমাজসেবক ও তরুণ উদ্যোক্তা মো. রাসেল হোসেন বলেন, আজকের পরিশ্রমই আগামী দিনের সাফল্যের ভিত্তি। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে মনোযোগী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে শোরসাক যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, চেড়িয়ারা কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সময়ের সদ্ব্যবহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ওপর প্রতিষ্ঠানের সুনামও নির্ভর করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কলেজের সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি আবু ইউসুফ খান শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলা বিভাগের প্রভাষক নার্গিস সুলতানা বলেন, দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পর শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিকের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মামুনুর রশীদ জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ লাইব্রেরিসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গণিত বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রধান অতিথির সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। কলেজের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমাজসেবক নূরুল আলম সোহাগ বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্যের সঙ্গে ভালো মানুষ হয়ে ওঠার বিষয়টিও জড়িত। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, অসৎ কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক পরিবেশ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে চেড়িয়ারা স্কুল শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজির আহমেদ বিএসসি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক দলীয় সংগীত পরিবেশন করে। এতে অডিটোরিয়ামে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। সবশেষে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

একটি নবীন বরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। কিন্তু ১৪২ শিক্ষার্থীর জন্য সেদিনই শুরু হয়েছে নতুন এক পথচলা। যে পথ শুধু পরীক্ষা, ফলাফল কিংবা সনদের নয়; জ্ঞান, স্বপ্ন, মূল্যবোধ ও নিজেকে গড়ে তোলারও। শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা—এই নবীনদের হাত ধরেই একদিন পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজে যোগ হবে নতুন সাফল্যের গল্প

ভাইরাল রিলের বিতর্ক পেরিয়ে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিউটি রানী পাল

শাহরাস্তিতে তিন সিআর পরোয়ানায় এক আসামি গ্রেপ্তার

ভাইরাল রিলের বিতর্ক পেরিয়ে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিউটি রানী পাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল থেকে স্বীকৃতির মঞ্চে; ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষকতা, আনন্দঘন পাঠদান ও সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি : একটি গান, একটি রিল ভিডিও, তারপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও ট্রল। ঘটনাটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছিল ভার্চুয়াল জগতে। নানা মন্তব্য আর সমালোচনার মধ্যে একসময় ভিডিওটি সরিয়ে নিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই বিতর্কের কয়েক মাস পরই সামনে এলো তাঁর শিক্ষকতা জীবনের আরেকটি পরিচয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাকে পেছনে ফেলে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন বিউটি রানী পাল।

তিনি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের বাছাই প্রক্রিয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্য থেকে চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁদের একজন বিউটি রানী পাল।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর স্বাক্ষর করা একটি স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষকদের নাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে বিউটি রানী পালের নাম ছিল না।

যে রিল ঘিরে আলোচনাঃ

চলতি বছরের ২৩ জুলাই ‘ডিফরেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় একটি গানের কয়েকটি লাইন ব্যবহার করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন বিউটি রানী পাল। ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’—গানের এই অংশ ব্যবহারের পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটির সঙ্গে নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে তা প্রচার করা হলে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও ট্রল। সাইবার বুলিংয়ের মুখে একপর্যায়ে ভিডিওটি সরিয়ে নেন তিনি।

তবে ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কেবল একজন শিক্ষককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকার শত শত নারী শিক্ষক একই গানের সঙ্গে নিজেদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। শিক্ষক সমাজের এমন অভিনব প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও সংহতি প্রকাশ করেন।

ফলে একটি ব্যক্তিগত রিল ভিডিওকে ঘিরে শুরু হওয়া ঘটনা পরিণত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী শিক্ষকদের প্রতি আচরণ, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও অনলাইন হয়রানি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনায়।

বিতর্কের বাইরে অন্য এক পরিচয়ঃ

তবে বিউটি রানী পালের শিক্ষকতা জীবনের গল্প শুরু হয়নি ওই রিল ভিডিও দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত তিনি। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ২০১৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন।

শিক্ষকতা জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি সৃজনশীল নানা কৌশল ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন তিনি। আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শরীরচর্চা এবং নাচের ছন্দে পড়াশোনাকে সহজ করে তোলার মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এসব উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
এর আগেও তিনি একবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো জেলা পর্যায়ের এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বনাম শ্রেণিকক্ষঃ

বিউটি রানী পালের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। অনলাইনে কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও যেমন দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তেমনি সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মন্তব্য বা প্রচারণাও মুহূর্তে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে একজন শিক্ষকের প্রকৃত কাজের পরিধি অনেক দীর্ঘ। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, তাদের আগ্রহ তৈরি করা, শেখার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার মূল্যায়ন একটি রিল ভিডিওর কয়েক মিনিটের দৃশ্য দিয়ে করা সম্ভব নয়।

বিউটি রানী পালের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঘটনা তাঁকে আলোচনায় এনেছিল। কিন্তু জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের কাজ ও অবদানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্বীকৃতি কি বদলে দেয় আলোচনার ভাষা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর মানুষ দ্রুত মতামত দেয়। সেখানে প্রেক্ষাপট, দীর্ঘমেয়াদি কাজ কিংবা একজন ব্যক্তির সামগ্রিক পরিচয় অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। বিউটি রানী পালের ঘটনাতেও প্রথমে সামনে এসেছিল একটি রিল ভিডিও। পরে সামনে এসেছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন এবং শ্রেণিকক্ষে সৃজনশীল পাঠদানের বিষয়টি।

জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার তথ্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই ব্যক্তিকে ঘিরে একদিকে যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে, অন্যদিকে তাঁর পেশাগত কাজের স্বীকৃতিও রয়েছে—দুটি বাস্তবতাই পাশাপাশি রয়েছে।

শিক্ষকের পরিচয় শ্রেণিকক্ষেইঃ

একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর শ্রেণিকক্ষের কাজ—শিক্ষার্থীদের শেখানো, তাদের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। বিউটি রানী পালের ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার বাইরে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের এই দিকটিই এখন নতুন করে সামনে এসেছে।

২০১৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এই পেশায় রয়েছেন। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার স্বীকৃতিও পেয়েছেন একাধিকবার।

একটি রিল তাঁকে পরিচিত করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে; আর শিক্ষকতার দীর্ঘ পথ তাঁকে এনে দিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিউটি রানী পালের গল্পটি যেন মনে করিয়ে দেয়—ভার্চুয়াল জগতের কয়েক মুহূর্তের আলোচনার চেয়ে একজন শিক্ষকের দীর্ঘদিনের কাজ ও শিক্ষার্থীদের ওপর তার প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত ও স্থায়ী।