জামিনে এসে সাক্ষীকে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
জামিনে এসে সাক্ষীকে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
শাহরাস্তিতে মামলার বাদী-সাক্ষীদের হেনস্তার অভিযোগ, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে একটি মামলায় জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলার চেষ্টা, হেনস্তা, অশালীন গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার তদন্ত করছেন শাহরাস্তি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দীন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও সাক্ষীরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল শংকরপুর কাজীবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কাজী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বাদী হয়ে ২৩ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন। সিআর ১২৩/২০২৬ নম্বর মামলায় কাজী খোরশেদ আলম, কাজী অনিক, কাজী অন্তর, কাজী ঐশ্বর্য, কাজী ইসমাইল, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল ও কাজী নাজির হোসেন টিটুসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার আসামিরা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। আদালত ছয় আসামির জামিন মঞ্জুর করেন এবং কাজী অনিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে কাজী অনিকের জামিন না হওয়ার খবর এলাকায় পৌঁছার পর আসামিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি মামলার বাদী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, ১ নম্বর সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবিরসহ অন্য সাক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁদের গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবির ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে এসআই ফরিদ উদ্দীন সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মামলার সাক্ষী শংকরপুর কাজীবাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. শাওনসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে জানান। এ সময় স্থানীয় অর্ধশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
কাজী হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর কয়েকজন জামিনপ্রাপ্ত আসামি তাঁকে মারধরের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন। প্রাণরক্ষায় তিনি বাড়ির গেট দিয়ে প্রবেশের সময় পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে গেট ধাক্কাধাক্কি করে তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে তাঁর দাবি।
এ ছাড়া মামলার সাক্ষীদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ঘটনার ভিন্ন বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





