বিশ্ব নদী দিবসের সেমিনারে ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই

বিশ্ব নদী দিবসের সেমিনারে ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই

বিশ্ব নদী দিবসের সেমিনারে ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টির রহস্যময় অনন্য প্রকৃতির রূপ কর্ণফুলী নদী। সৃষ্টির এক অপার সম্ভাবনা ও রহস্যে ঘেরা চট্টগ্রাম। আর এ চট্টগ্রাম গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী নদী ঘিরে। সৃষ্টিজগতের এক অনন্য নিদর্শনও বটে কর্ণফুলী নদী। যে নদীতে মিলিত হয়েছে পাহাড়, পর্বত, নদ-নদীসহ প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শনগুলো। চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব বেড়েছে এই কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে। কর্ণফুলী নদী আজ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে সয়লাব হয়ে চিরচেনা রূপ হারিয়ে ফেলেছে। তাই কর্ণফুলী নদীকে চট্টগ্রাম ও দেশের স্বার্থে রক্ষা করতে হবে। চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই।
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপাচার্য, দেশের খ্যাতনামা নদী বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের পরিবেশ সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের উদ্যোগে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল চারটায় নগরের স্টেশন রোডের একটি হোটেলের সেমিনার কক্ষে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সংগঠনের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বিএসসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাসের পাঠশালার সভাপতি, ইতিহাস গবেষক ও লেখক সোহেল মো. ফখরুদ দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, পরিবেশ শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ ইকবাল সরোয়ার, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা ও পরিবেশ সংগঠক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা, চট্টগ্রামের খ্যাতনামা জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ ও শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি স ম জিয়াউর রহমান ও সদস্য সোমা মুৎসুদ্দীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ, সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান এস এম আজিজ, এ কিউ এম মোসলেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এমরান, সদস্য এম নুরুল হুদা চৌধুরী, আকতার হোসেন নিজামী, জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি, আয়েশা সিদ্দিকা, আবদুল মোমেন মোল্লা, মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, রোকন উদ্দিন আহমদ, চসিক সাবেক মেয়রপ্রার্থী এম এ ছালাম।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী ক্রমাগত ভরাট ও অপরিশোধিত বর্জ্যে সয়লাব হলে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দর হুমকির মুখে পড়বে। এখনই পরিকল্পিত ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী প্রজন্মকে কঠিন সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে এবং জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম নগরী গড়তে হলে কর্ণফুলীর প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে আনতে হবে। দখল-দূষণমুক্ত কর্ণফুলী গড়তে না পারলে আগামী প্রজন্মের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আমাদের সকলকে। কর্ণফুলী ও এর শাখাপ্রশাখা খালগুলোতে পুনরুদ্ধার করতে এবং নদীর অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে আগামীর প্রজন্মের স্বার্থে।
সেমিনার শেষে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট চারজন ব্যক্তিকে ‘মার্ক এঞ্জেলো অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয় এবং শেষে সংগঠনের উদ্যোগ প্রকাশিত ‘গ্রীন চট্টগ্রাম-গ্রীন বাংলাদেশ’ স্মারক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

কিশোরদের বিরুদ্ধে তকমা নয়, চাই দায়িত্বশীলতা

বিশ্ব নদী দিবসের সেমিনারে ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই

কিশোরদের বিরুদ্ধে তকমা নয়, চাই দায়িত্বশীলতা

পুলিশের অভিযান প্রয়োজন, কিন্তু অভিযানে আটক হওয়া মানেই অপরাধী নয়। কিশোরদের সুরক্ষা ও সংশোধনের পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশেও চাই তথ্যনির্ভরতা, সংযম ও মানবিকতা।

শাহরাস্তিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৫ জন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখা এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো যায়। একই সঙ্গে এ ঘটনা অভিভাবকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, কীভাবে সময় কাটায়, সে বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আটক হওয়া ৪৫ জন কিশোরই কি ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’?

কোনো স্থানে আড্ডা দেওয়া, সন্দেহের ভিত্তিতে আটক হওয়া কিংবা পুলিশের অভিযানে উপস্থিত থাকার সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’ হওয়ার বিষয়টি এক নয়। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়। সেই প্রক্রিয়ার আগেই একজন কিশোরের পরিচয়ের সঙ্গে অপরাধের তকমা জুড়ে দেওয়া কতটা দায়িত্বশীল—সেটিই ভাবার বিষয়।

এখানে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকতার মূল শক্তি তথ্য, যাচাই ও সত্যনিষ্ঠতা। একটি সংবাদ মানুষকে সচেতন করতে পারে, অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে, প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু একটি ভুল শব্দ একই সঙ্গে একটি কিশোর ও তার পরিবারের জন্য সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে কিশোরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। কৈশোর ভুল-শোধরানোর বয়স। এই বয়সে কারও বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি অপবাদ পরবর্তী জীবনে তার শিক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আবার মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন অনলাইনে থেকে যায়। ফলে সংবাদ প্রকাশের সময় সাংবাদিককে শুধু ‘খবরটি কতটা আকর্ষণীয়’—তা নয়, ‘এর সামাজিক পরিণতি কী হতে পারে’—সেটিও বিবেচনায় রাখতে হয়।

অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই লিখতে হবে। সন্দেহভাজনকে সন্দেহভাজন হিসেবেই উল্লেখ করতে হবে। তদন্তাধীন বিষয়কে তদন্তাধীন হিসেবেই উপস্থাপন করতে হবে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হলে কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত থাকা সংবাদমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।

একই সঙ্গে কিশোরদের পরিবারকেও দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তানকে শুধু শাসন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তার কথা শুনতে হবে, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, তার বন্ধু ও চলাফেরা সম্পর্কে জানতে হবে। কোথাও বিচ্যুতির লক্ষণ দেখা দিলে শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর অপেক্ষা না করে শুরুতেই পাশে দাঁড়াতে হবে।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সংবাদমাধ্যম—সবারই নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। পুলিশের অভিযান অপরাধ ঠেকাবে, পরিবার সন্তানকে আগলে রাখবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূল্যবোধ গড়ে তুলবে এবং সংবাদমাধ্যম সত্য ও দায়িত্বশীল তথ্য তুলে ধরবে—এই সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি প্রজন্মকে ভুল পথে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে।
শাহরাস্তি থানা পুলিশের অভিযান তাই হোক অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি কিশোরদের সংশোধনের সুযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ। আর সংবাদমাধ্যমের প্রতি প্রত্যাশা একটাই—খবর প্রকাশ হোক কঠোরভাবে সত্যের পক্ষে, কিন্তু কোনো নিরপরাধ কিশোরের ভবিষ্যৎ যেন অসতর্ক একটি শব্দে বিপন্ন না হয়।

কারণ, কলমের দায়িত্ব শুধু অপরাধের খবর দেওয়া নয়; মানুষের মর্যাদাও রক্ষা করা।

সাংবাদিক সুরক্ষা: আর কত নির্যাতনের পর রাষ্ট্র জাগবে?

বিশ্ব নদী দিবসের সেমিনারে ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই

সাংবাদিক সুরক্ষা: আর কত নির্যাতনের পর রাষ্ট্র জাগবে?

রাষ্ট্রের কাছে একটি সরল প্রশ্ন—প্রতিদিন কতজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হলে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট হবে?

গতকাল রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও নির্যাতনের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনাটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং সমাজে মতপ্রকাশের সহনশীল পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার দাবি রাখে।

সাংবাদিকের হাতে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা নোটবুক; কোনো অস্ত্র নয়। তিনি ঘটনাস্থলে যান তথ্য সংগ্রহ করতে, মানুষের কথা তুলে ধরতে এবং সমাজকে সত্য জানাতে। কোনো সংবাদ, ছবি বা বক্তব্য নিয়ে কারও আপত্তি থাকতেই পারে। সেই আপত্তি জানানোর সাংবিধানিক ও আইনসম্মত পথও রয়েছে। কিন্তু আপত্তির জবাব যদি হয় হামলা, হেনস্তা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ থাকে না; আঘাত আসে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর।

সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রহরী। ক্ষমতাবান থেকে সাধারণ মানুষ—সবার কর্মকাণ্ড, দাবি, অভিযোগ ও বাস্তবতা জনসমক্ষে তুলে ধরাই সংবাদমাধ্যমের কাজ। এই কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিক যদি প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে একসময় ঘটনাস্থলে যাওয়ার সাহস কমবে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হয়তো জনসমক্ষে আসবে না।

তখন ক্ষতিটা কার? শুধু সাংবাদিকের নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমাজ, রাষ্ট্র এবং সর্বোপরি মানুষের জানার অধিকার।
আমরা প্রায়ই কোনো সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার পর প্রতিবাদ জানাই, নিন্দা করি, তদন্তের দাবি তুলি। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়াও হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো নিয়ে কি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হয়েছে?

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য বিশেষ সুবিধা নয়। বরং এটি এমন একটি সুরক্ষা কাঠামো হতে পারে, যার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর হামলা, বাধা, হুমকি কিংবা পেশাগত কাজে বেআইনি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নামে অনৈতিকতা বা আইনভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তারও যথাযথ আইনি জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ সুরক্ষা যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে দায়িত্বশীলতা।

গতকালের ঘটনার পর তাই রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্নটি আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হওয়া স্বাভাবিক—আর কতজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে আমরা বুঝব যে সমস্যাটি গুরুতর?

সংখ্যা দিয়ে সাংবাদিকের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা মাপা যায় না। একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাই যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। কারণ একজন সংবাদকর্মী যখন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হন, তখন তার সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয় তথ্যের স্বাধীন প্রবাহও।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সাংবাদিকরা ভয়মুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাজনৈতিক মত, সামাজিক পরিচয় কিংবা কোনো পক্ষের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন নয়—সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত তার পেশাগত দায়িত্বের ভিত্তিতে।

বার্তাটি তাই স্পষ্ট: সাংবাদিককে নিরাপদ রাখা মানে শুধু একজন সংবাদকর্মীকে নিরাপদ রাখা নয়; মানুষের জানার অধিকার, সমাজের জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রকেও নিরাপদ রাখা।

এখন প্রয়োজন শুধু প্রতিবাদ নয়—প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। নিন্দার ভাষা পেরিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষার একটি বাস্তবসম্মত, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর আইনি কাঠামো নিয়ে রাষ্ট্রকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ নিরাপদ সাংবাদিকতা ছাড়া নিরাপদ তথ্যপ্রবাহ সম্ভব নয়, আর অবাধ তথ্যপ্রবাহ ছাড়া সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজও পূর্ণতা পায় না।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

বিশ্ব নদী দিবসের সেমিনারে ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

কুলেন্দু শেখর দাস,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নদীতে বিআইডব্লিউটিএ এর আওতাধীন “সাচনা বাজার লঞ্চঘাট ও শুল্ক আদায় কেন্দ্র’র ইজারাদার জিয়াউর এবং তার লোকজন কর্তৃক অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধ ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নের অন্তর্গত গজারিয়া নামক এলাকায় এলসি, বার্দিং চার্জ আদায় কেন্দ্র ঘাটের ইজারাদার ওয়াহিদ আলী ও শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান, শফিক মিয়া ও মাসুক চেয়ারম্যান কর্তৃক অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন কমসূচী পালিত হয়েছে।

রবিবার দুপুরে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি ও নৌ-শ্রমিক সমিতির আয়োজনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সাচনাবাজার টু লালপুর গজারিয়া বিআইডব্লিউটিএ নদী পথে সরকার নিধারিত টোল প্রতি ঘনফুট পাথর ৫০ পয়সার স্থলে ২.৮০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালু ২৫ পয়সার স্থলে ১.৩০ পয়সা পরিবহনকারী নৌকা থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজী, হয়রানী ও শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করা না হলে জামালগঞ্জ নৌ শ্রমিক-মিল ক্র্যাশার
ব্যবসায়িরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিশাল সমাবেশ করারও হুশিয়ারী দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন মন্ত্রালয়ে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দির লোকজন অবৈধভাবে সাচনা টু লালপুর নদী পথে চানপুর,লালপুর,লক্ষীপুর
নামকস্থানে বালু-পাথরবাহী লোড-আনলোডচলন্ত নৌকা আটকিয়ে ৫০ পয়সার স্থলে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের দেয়া টোল চার্টের চেয়ে অতিরিক্ত ২.৮০ পয়সা করে দুইবার টোল আদায় করছে। এদিকে ইজারাদার কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জেলা কার্গো-ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন ও জামালগঞ্জ স্টিলবডি নৌ পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলেই তাদেরকে হয়রানি সহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে।

শ্রমিক ও ব্যবসায়িরা বলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রালয়ের গেজেট ও টোল চার্টে স্পষ্টভাবে বালি,মাটি,পাথর,কয়লা ইত্যাদি যে সকল দ্রব্য সামগ্রীর পরিমাণ ঘনফুট/ঘনমিটারে নির্ধারিত হয় তা জাহাজ/বার্জ/নৌকা হতে (২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে) জেটিতে বা ফোরশোরে বা যানবাহনে বা অন্য কোন জাহাজ/ভেসেল/ফ্ল্যাট/বার্জ/লঞ্চ/নৌকায় মালামাল উঠানো বা নামানোর জন্য (২০০ মিটারের অধিক প্রতি ৫০ মিটারের জন্য ০.০৫ টাকা প্রতি ঘন মিটার) উল্লেখ রয়েছে কিন্তু নদী পথে পরিবহনকৃত প্রতি ঘনফুট পাথরে যেখানে ৫০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালুতে ২৫ পয়সা করে টোল আদায় করার কথা থাকলেও ইজারাদাররা প্রতি ঘনফুট পাথরে ২.৮০ পয়সা করে লোড আনলোড নৌকা থেকে দুইবারে ৫ টাকা ৬০ পয়সা এবং বালু থেকে ২৫ পয়সার স্থলে ১.৩০ পয়সা টোল আদায় করছে। যে কারণে সুনামগঞ্জ ০১ আসনের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ি কর্মসংস্থান হারিয়ে মানব বেতর জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে নির্ধারিত টোল আদায় কেন্দ্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা চালকদের জিম্মি করে ভাসমান অবস্থায় নদীর তিনটি স্থানে টোল আদায় করে যাচ্ছে। যারা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান তাদেরকে মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও রশিদ না দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে । অবিলম্বে নদীপথে টোল আদায়ের নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি,শ্রমিক হয়রানী ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিলের সভাপতি হুসেন আলী লাল মিয়া,সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ি জয়দর আলী, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বালহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব,লোকমান হোসেন,রহমগীর, মিল ব্যবসায়ি নবী নুর,নৌ শ্রমিক রফিকুল ইসলাম,করিম হোসেন কবীর,ওমর ফারুক,জুয়েল,শাহজালাল,আল আমিন,আউশাল আজম প্রমুখ।

ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি জানান, সরকার আমাদেরকে যে রেট দিয়েছে। সেভাবেই আদায় করছি। প্রতি ঘনফুট পাথর ও বালুর টোল টেক্স এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, প্রতি ঘনফুট পাথর ২.৮০ পয়সা এবং বালু ৩০ পয়সা করে টোল আদায় করছি। আমাদের ঘাটে অতিরিক্ত কোন টোল আদায় করা হয় না। জামালগঞ্জ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সাচনা টু লালপুর গজারিয়া বিআইডব্লিউটিএ নদী পথে টোল আদায়ের বিষয়ে উভয়ের মধ্যে সমযোতা হয়েছিল। তবে কেউ যদি অতিরিক্ত টোল আদায় করে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।