নাওড়া জামে মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত
নাওড়া জামে মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত
বিশেষ প্রতিনিধি শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাওড়া গ্রামে অবস্থিত নাওড়া জামে মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাদ এশা শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম, ইন্তেকাল, জীবনাদর্শ, নৈতিক শিক্ষা ও সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মুফতি মাসুম বিল্লাহ। উক্ত আলোচনা সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, মসজিদের মোয়াজ্জেম এইচ এম রাকিবুল ইসলাম।
আলোচনায় পবিত্র কোরআনের সূরা নাহলের ৩৬ নম্বর আয়াতের আলোকে নবী-রাসুলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য ও মানবজাতির প্রতি তাঁদের দাওয়াতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আয়াতটির মর্মার্থ হলো—আল্লাহ প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন; তাঁরা মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাগুত থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আলোচক বলেন, নবী-রাসুলদের মূল শিক্ষা ছিল মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করা এবং সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সৎকর্মের পথে পরিচালিত করা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনেও এসব মূল্যবোধের পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত রয়েছে।
আলোচনায় বলা হয়, রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সুন্নাহ ও নৈতিক আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করা জরুরি। তাঁর সততা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, ন্যায়বিচার, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির শিক্ষা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
মুসলিম সমাজের করণীয় সম্পর্কে আলোচক বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, নিয়মিত সুন্নাহ অনুসরণ, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উত্তম চরিত্রের চর্চা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। ধর্মীয় ভালোবাসাকে বাস্তব জীবনের আচরণ ও নৈতিকতায় প্রতিফলিত করাই হওয়া উচিত এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে নাওড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. সাদিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, কোষাধ্যক্ষ সফিউল আজম, পেশ ইমাম মাওলানা আবু নোমানসহ মসজিদ কমিটির সদস্য, এলাকার মুরব্বি, যুবক, শিশু-কিশোর ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে দেশ ও দেশের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়াত মুসল্লিদের রুহের মাগফিরাত এবং জীবিতদের সুস্থতা, কল্যাণ ও পরকালীন নাজাত কামনা করা হয়।
মোনাজাতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা, শান্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়।






