পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৫ বছর পূর্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার উদ্যোগ
পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৫ বছর পূর্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের স্মৃতি, প্রিয় সহপাঠীদের মুখ এবং শৈশব-কৈশোরের চেনা সেই বিদ্যালয়কে ঘিরে পুরোনো সম্পর্ক ও স্মৃতিকে নতুন করে একসূত্রে বাঁধার প্রত্যয়ে পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আয়োজনকে ঘিরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রস্তাবিত পুনর্মিলনীর নাম নির্ধারণ করা হয়—‘পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৫ বছর পূর্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা’। সভায় সম্ভাব্য আয়োজনের সময় হিসেবে আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনকে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ ও আয়োজনের অন্যান্য বিষয় পরবর্তী সভাগুলোতে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই এ আয়োজনের মূল আয়োজক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাচ ও গ্রামভিত্তিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কাজে সভায় উপস্থিত কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে ব্যাচভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ ব্যাচের সম্ভাব্য সর্বোচ্চসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং তাঁদের মিলনমেলার উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করবেন। একই সঙ্গে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় প্রতিটি ব্যাচ থেকে অন্তত দুই থেকে তিনজন প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, শুধু নিজ নিজ ব্যাচের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ নয়, আয়োজনের কাজে সক্রিয়ভাবে সময় দিতে পারবেন—এমন পরিচিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও পরবর্তী সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে। তাঁদের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আয়োজক কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশনের আগে একটি গুগল ফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. আব্রার মাহিরকে।
আয়োজনকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে সম্ভাব্য কয়েকটি উপকমিটির প্রস্তাব সভায় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—রেজিস্ট্রেশন, অর্থ, আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক, প্রচার-প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, ম্যাগাজিন, পুরস্কার, অভ্যর্থনা, ক্রীড়া ও লটারি কমিটি। তবে এসব কমিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রয়োজন ও বাস্তবতার আলোকে পরবর্তী সভাগুলোতে আলোচনা করে কমিটির সংখ্যা, কাঠামো ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়, শুধু নামের তালিকায় থাকার চেয়ে আয়োজনের কাজে বাস্তবভাবে সময় দিতে পারবেন—এমন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করাই কমিটি গঠনের অন্যতম বিবেচনা হওয়া উচিত। কারণ একটি বড় আয়োজন সফল করতে পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রয়োজন সক্রিয় অংশগ্রহণ, সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা মনে করেন, সময় হাতে খুব বেশি নেই। তাই আলোচনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের ৮৫ বছরের গৌরবময় পথচলাকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও অংশগ্রহণই এ আয়োজনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; অনেকের জীবনের শৈশব, স্বপ্ন, বন্ধুত্ব ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আপন ঠিকানা। সেই ঠিকানার ৮৫ বছরের ইতিহাসকে সামনে রেখে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলার উদ্যোগ তাই কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং পুরোনো দিনের স্মৃতির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস।






