গাছ কাটার ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিএনপি নেতা বেলায়েতের ব্যাখ্যা
গাছ কাটার ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিএনপি নেতা বেলায়েতের ব্যাখ্যা
বিশেষ প্রতিনিধি, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের পাশের কয়েকটি গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে নিজের অবস্থান ও ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন শাহরাস্তি পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় শাহরাস্তি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কিছু সংবাদে ঘটনাটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এতে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
লিখিত বক্তব্যে বেলায়েত হোসেন সেলিম জানান, ২০০২ সালের ২৩ জুন তৎকালীন শাহরাস্তি পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাস্তার বিষয়ে তাঁর একটি লিজ চুক্তি হয়েছিল। পরবর্তীতে গত কোরবানির ঈদের আগে ওই এলাকার কয়েকটি গাছ স্থানীয় একটি মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কাটার বিষয়ে তিনি মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেন বলে জানান।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির কারণে লিজ ও গাছ কাটার বিষয়টি যথাসময়ে পৌর প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
বেলায়েত হোসেন সেলিম বলেন, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ হিসেবে তিনি নিজেই পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শ্রীপুর উত্তর-পূর্বপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন গাছের মূল্য বাবদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা পৌরসভার দপ্তরে জমা দেন। পরে পৌর কর্তৃপক্ষ ওই অর্থ সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেনও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, গাছগুলো মসজিদ কমিটিই বিক্রি করেছে এবং গাছের মূল্য বাবদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা তিনিই পৌরসভার দপ্তরে জমা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ঘটনায় শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিমের কোনো দায় নেই।
এদিকে সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ‘লিজের টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা বেলায়েত হোসেন সেলিম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে।
বেলায়েত হোসেন সেলিম বলেন, এ ধরনের শিরোনাম বা উপস্থাপনার ফলে পুরো ঘটনাটি তাঁর ব্যক্তিগত দায় হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পরও পুরোনো ঘটনাটি নতুন করে সংবাদ ও অনলাইন কনটেন্টে আলোচনায় আসায় তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি সামনে আনছে কি না—এমন আশঙ্কার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেননি।
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বেলায়েত হোসেন সেলিম বলেন, কোনো ঘটনা প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য যাচাই করা জরুরি। তাঁর মতে, অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে যেন কোনো ব্যক্তির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি না হয়, সেদিকেও গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শাহরাস্তিবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে এর পূর্ণ প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আলোকে বিবেচনা করা উচিত। সব তথ্য সামনে এলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং শাহরাস্তির সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে গাছ কাটার অনুমতি, ২০০২ সালের লিজ চুক্তির শর্ত, গাছ বিক্রির প্রক্রিয়া এবং পৌরসভার তহবিলে ৮ হাজার ৩০০ টাকা জমা দেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টির প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে। তাই ঘটনাটি নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






