১৪ কোটি টাকার সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি: শেরপুরে ১৫ ডিলার জেলহাজতে
১৪ কোটি টাকার সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি: শেরপুরে ১৫ ডিলার জেলহাজতে
(কাকন সরকার) শেরপুর প্রতিনিধি:শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১৫ সার ডিলারকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৬ জন আসামি হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। তবে আদালতে হাজির হওয়া আসামিদের মধ্যে একজনের জামিনের মেয়াদ বহাল থাকায় আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকি ১৫ জনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা এই মামলার এজাহারভুক্ত ২০ জন আসামির সবাই পূর্বে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। আজ উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৬ জন আসামি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন জানান।
জেলহাজতে পাঠানো ১৫ সার ডিলার হলেন—সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন সারের দোকানে আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তা যাচাই-বাছাই করে সরকারি সার অবৈধভাবে বিক্রির ব্যাপক অনিয়ম ও প্রামাণিক তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিক মুনাফা লাভের আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ সার খোলা বাজারে বা কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ইউরিয়া সার: ৪ হাজার ৪১২ টন (আনুমানিক মূল্য ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা)
ডিএপি সার: ৮২১ টন (আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা)
টিএসপি সার: ১৩৪ টন (আনুমানিক মূল্য ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা)
অন্যান্য সার: আনুমানিক ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের সার।
এই সুনির্দিষ্ট অনিয়মের ওপর ভিত্তি করে গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২০ ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, মামলার মোট ২০ জন আসামির মধ্যে আজ ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হন। যেহেতু ১৫ জনের উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাই আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি ১ জনের জামিনের মেয়াদ থাকায় তাঁর শুনানি পিছিয়ে জামিন বহাল রাখা হয়েছে।






