শাহরাস্তিতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
শাহরাস্তিতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুকে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে যৌন নিপীড়ন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ৬৪ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম নামে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শাহরাস্তি মডেল থানার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার আমিনুল ইসলাম উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উল্লাশ্বর (হাবিবউল্লাহ চেয়ারম্যান বাড়ি) এলাকার মৃত হাসান আহাম্মেদের ছেলে। তিনি স্থানীয় জামালিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই শিশু প্রায় দুই বছর ধরে আমিনুল ইসলামের কাছে আরবি পড়ত। অভিযোগ, পড়ানোর সুযোগে গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সময় শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো, মারধরের হুমকি এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি তার পোশাক খুলে ফেলার মতো আচরণেরও অভিযোগ করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভয় ও আতঙ্কের কারণে শিশুটি প্রথমদিকে কাউকে কিছু জানায়নি। ঘটনার এক পর্যায়ে বাড়িতে ফিরে সে কান্নাকাটি করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সামছুন্নাহার বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো শিক্ষিকাকে জানায়। শিক্ষিকা ফোন করে শিশুটির মাকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তাকে ওই শিক্ষকের কাছে আর না পাঠানোর পরামর্শ দেন।
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, তার মেয়েকে বিভিন্ন সময় কাউকে বিষয়টি জানালে মারধর করা এবং বালিশ দিয়ে চাপা দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। হাত-পা টেনে ধরা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপ দিয়ে ব্যথা দেওয়া এবং বস্তায় ভরে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও শিশুটি জানিয়েছে। একটি ঘটনায় পোশাক খুলে ফেলার অভিযোগও করেছে সে। ওই সময় শিক্ষকের পরিবারের একজন নারী সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে শিশুটি জানিয়েছে।
শিশুটির মা বলেন, মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর প্রথমে আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, মসজিদের ইমামসহ কয়েকজনকে অবহিত করা হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শিশুটিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছে।
পরে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনকে জানানো হলে তিনি শাহরাস্তি মডেল থানায় অবহিত করেন। অভিযোগের পর পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার এক প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, এ ঘটনায় থানায় এফআইআর নং-২৭, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং জিআর নং-৩১০, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মূলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ পাওয়ার পরই গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামি আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দাবি করেছেন, আমিনুল ইসলাম একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় কয়েকজনও তাকে ওই দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
শিশুটিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগটি এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা, মানসিক সুরক্ষা ও স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ—উভয় ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু তদন্তের কোনো বিকল্প নেই।






