প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনী নিয়ে বিএমএসএফের উদ্বেগ
প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনী নিয়ে বিএমএসএফের উদ্বেগ
সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনীতে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আইন প্রণয়নের নামে একেক সরকার একেক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরুদ্ধ করার ঘটনা নতুন নয়। তবে যেকোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।”
তিনি বলেন, “কোনো দলীয় নেতা-কর্মীদের সাংবাদিক বানিয়ে আইন প্রণয়নের নামে তা সাংবাদিক সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না।”
বিএমএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অনলাইনে ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ বা ‘যাচাইহীন’ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান এবং সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো ক্ষমতার প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও নিরপেক্ষ আইনি মানদণ্ড না থাকলে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভুল তথ্য’, ‘অপতথ্য’ কিংবা ‘যাচাইহীন তথ্য’—এসব শব্দের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও নিরপেক্ষ আইনগত মানদণ্ড থাকা জরুরি। অন্যথায় জনস্বার্থে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হয়রানি, মামলা কিংবা অন্যান্য আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন।
আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন Committee to Protect Journalists (CPJ)-ও প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিএমএসএফ বলেছে, সাইবার অপরাধ দমন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সাইবার অপরাধ দমনের নামে যেন সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ সংকুচিত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংগঠনটি সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত সংশোধনী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আইন প্রণয়নের আগে সাংবাদিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে আইন সংশোধনের পরিবর্তে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের মালিক, আইনজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাইবার আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিএমএসএফ।
বিএমএসএফের বক্তব্য—সাইবার অপরাধ দমন হোক, কিন্তু সাংবাদিকতার কণ্ঠ যেন রুদ্ধ না হয়; আইন হোক জনস্বার্থে, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই।






