কিডনি রোগে আক্রান্ত নাঈম, সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস চিকিৎসা চালাতে সহায়তা চায় পরিবার
কিডনি রোগে আক্রান্ত নাঈম, সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস চিকিৎসা চালাতে সহায়তা চায় পরিবার
বিশেষ প্রতিনিধি, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : বয়স মাত্র ২৬ বছর। এই বয়সে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা আবু নাঈমের। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। দেশে ফিরে এখন সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাঁকে। ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ইতিমধ্যে পরিবারটির আর্থিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।
আবু নাঈম চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মেহার দক্ষিণ ইউনিয়নের ভোলদিঘী মাদ্রাসাবাড়ির বাসিন্দা। মাওলানা নূরুল ইসলাম ও নাছিমা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে তিনি। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট নাঈম ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেছেন।
পরিবারের ভাষ্য, উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ২০২৩ সালের জুনে ঋণ করে সৌদি আরবে যান নাঈম। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সেখানে তাঁর কিডনি রোগ শনাক্ত হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার দিন আইসিইউতেও চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পরিবারের হিসাবে, গত আট মাসে নাঈমের চিকিৎসায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
নাঈমের বাবা মাওলানা নূরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেওয়ার পরও অবসর ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাননি বলে জানিয়েছে পরিবার। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ছয় শতাংশ জমিও বিক্রি করেছেন তিনি।
মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, ছেলের চিকিৎসায় ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু এখন সেই অর্থ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সরকার, প্রবাসী, বিত্তবান ও দানশীল মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। মানুষের সহায়তা ছাড়া এখন চিকিৎসার খরচ চালিয়ে যাওয়া কঠিন।”
নাঈমের মা নাছিমা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে আপনারা যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করুন আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করবেন। আপনাদের সহযোগিতায় আমার ছেলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”
চিকিৎসক জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ভবিষ্যতে নাঈমের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকেরপরামর্শ অনুযায়ী, এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্য কিডনি দান করতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও শারীরিক জটিলতার কারণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
দেশে ফেরার পর মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আশরাফুল আলমের পরামর্শ নিয়েছেন নাঈম। বর্তমানে নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নিজামউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
নাঈমের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আক্তারুজ্জামান বলেন, নাঈমের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তিনি ও তার পরিবার সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছে। সামর্থ্যবান মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়ালে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
মেহার দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিনও নাঈমের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, নাঈম তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে না গিয়ে বাবা-মাকে সহায়তা করতে বিদেশে গিয়েছিল সে। কিন্তু সেখানে গিয়ে গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। নাঈমের বাবা-মা ও বড় ভাইও অসুস্থ থাকায় পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সহায়তা পাঠানোর তথ্য :
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাঈমের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা পাঠাতে তাঁর ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর ০১৬৩১৫০৩৬৪৮-এ যোগাযোগ করা যাবে।
ব্যাংক হিসাব : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
হিসাবের নাম: আবু নাঈম, হিসাব নম্বর: ২০৫০৭৭৭০২৩৪৮২৯১৮৫, শাখা: এজেন্ট ব্যাংকিং
রাউটিং নম্বর: ১২৫২৭০৬০৭, SWIFT Code: IBBL BDDDHFERD; মোবাইল: ০১৬৩১৫০৩৬৪৮
পরিবার জানিয়েছে, সহায়তা পাঠানোর আগে প্রয়োজন হলে উল্লিখিত নম্বরে যোগাযোগ করে নাঈমের চিকিৎসা ও আর্থিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা যাবে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁদের পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই নাঈমের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সরকার, প্রবাসী ও দেশের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।






