ডাস্টার ছোড়ার আঘাতে চোখ-মুখে জখম ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী
ডাস্টার ছোড়ার আঘাতে চোখ-মুখে জখম ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী
শাহরাস্তির ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার
স্টাফ রিপোর্টার, শাহরাস্তি: শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষকের ছোড়া কাঠের ডাস্টারের আঘাতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থীর চোখ, মুখ ও চোয়ালে আঘাত লাগে। পরে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে শাহরাস্তির ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায়। আহত শিক্ষার্থীর নাম ফারহাজ হোসেন (১২)। সে মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার শ্রেণির রোল ৩৬। তার বাবার নাম ফারুক হোসেন।
আহত শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট দুপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাসে পড়াতে যান মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক হাসান আহমেদ বাবলু। এ সময় পড়াশোনার একটি বিষয় নিয়ে ফারহাজের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে হাতে থাকা কাঠের ডাস্টারটি ফারহাজের দিকে ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডাস্টারের আঘাতে ফারহাজের চোখ, মুখ ও চোয়ালে জখম হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। পরে সহপাঠীদের সহযোগিতায় তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বিচার দাবি করা হয়। পরিবারের দাবি, তাঁদের উপস্থিতিতে শিক্ষক হাসান আহমেদ বাবলু নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করেন।
তবে শিক্ষকের বক্তব্য ভিন্ন। হাসান আহমেদ বলেন, ‘এটি সামান্য একটি ঘটনা।’ তিনি কারও কাছে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করেননি বলেও দাবি করেন।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, হাসান আহমেদ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের গালমন্দ ও বেত্রাঘাত করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই অধ্যক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আহত শিক্ষার্থীর পরিবার মাদ্রাসায় এসে বিচার চেয়েছে। শিক্ষক হাসান আহমেদ তাঁদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।’
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পারলাম। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একটি ডাস্টারের আঘাত হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে সেরে উঠবে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে একজন শিশুর মনে তৈরি হওয়া ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সহজে মুছে যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুর কাছে শাসনের নয়, শেখার ও নিরাপদে বেড়ে ওঠার জায়গা—এমন ঘটনাকে ঘিরে তাই যথাযথ তদন্ত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাপশন: শাহরাস্তির ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকের ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে আহত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহাজ হোসেন (১২) এবং অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান আহমেদ বাবলু।






