নতুন পে-স্কেল অনুমোদন
নতুন পে-স্কেল অনুমোদন
সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার
তিন ধাপে বাস্তবায়ন | অগ্রাধিকার ১০ম–২০তম গ্রেডে | কার্যকর ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও তা একবারে বাস্তবায়ন করা হবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।
অগ্রাধিকার পাবেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে তুলনামূলক কম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাড়ছে পেনশন
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের নিট পেনশনও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা
নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে মোবাইল ভাতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এ ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
উপকারভোগী ৩৩ লাখের বেশি
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী। সব মিলিয়ে উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৩ লাখের বেশি।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার একটি বড় অধ্যায়ের অবসান হলো। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন এবং এর সুফল কর্মচারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া।






