ফল প্রকাশের পর অধ্যক্ষের বাড়িতে ইট নিক্ষেপ, অভিভাবকের জিম্মায় ৫ শিক্ষার্থী
ফল প্রকাশের পর অধ্যক্ষের বাড়িতে ইট নিক্ষেপ, অভিভাবকের জিম্মায় ৫ শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আবেগ ও উত্তেজনার বশে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বাড়ির সামনে গিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও বাড়ি লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। পরে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরকাপ গ্রামের ভোলদীঘি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থী হলো—আবদুল্লাহ আল বাকি (১৭), আরাফাত হোসেন (১৭), মাহফুজুর রহমান জিহাদ (১৭), নুরুজ্জামান সায়মন (১৭) ও রায়হান হোসেন (১৭)। তারা শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ফল প্রকাশের পর ওই শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর প্রয়াত বাবা-মাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি ইট নিক্ষেপ করা হয়। অধ্যক্ষ বাড়ির সামনে এলে তারা সেখান থেকে চলে যায়।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের খবর দিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে আসা হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা ঘটনার কথা স্বীকার করে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেগ ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তারা এ কাজ করেছে। নিজেদের ভুলের জন্য তারা ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলে অঙ্গীকার করে।
পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
পুলিশের রেকর্ড ও সিডিএমএস পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিরূপ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি আর কোনো অভিযোগ না রাখার কথা জানালে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রথমবারের মতো তাঁদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
উচ্ছ্বাস যেন উচ্ছৃঙ্খলতায় না গড়ায় :
ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস স্বাভাবিক। তবে সেই আনন্দ যেন কারও প্রতি অসম্মান, গালিগালাজ, ভাঙচুর কিংবা অন্য কোনো অপরাধে পরিণত না হয়—এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবারই সচেতন থাকা জরুরি।
একটি পরীক্ষার ফলাফল জীবনের চূড়ান্ত পরিচয় নয়। সাফল্যে যেমন সংযম প্রয়োজন, তেমনি ব্যর্থতা বা প্রত্যাশার ঘাটতিতেও প্রয়োজন ধৈর্য। সাময়িক আবেগে করা একটি ভুল ভবিষ্যৎ জীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষার্থীদের ভুলকে শুধরে দিয়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। একই সঙ্গে আনন্দ উদ্যাপনের ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখার বার্তাই হওয়া উচিত এবারের ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।






