শাহরাস্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দুই শিশুকে রেখে না ফেরার দেশে নাজমুন নাহার স্বপ্না
শাহরাস্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দুই শিশুকে রেখে না ফেরার দেশে নাজমুন নাহার স্বপ্না
নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকেঃ জীবনের সব হিসাব কখনো কখনো থেমে যায় নিঃশব্দে। একটি সকাল বদলে দেয় কয়েকটি জীবনের ভবিষ্যৎ। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দোয়াভাঙ্গায় একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমুন নাহার স্বপ্না (৩৭) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১২ জুলাই) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শাহরাস্তি পৌর এলাকার দোয়াভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে নিউ লাইফ হাসপাতালের ৫ম তলার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে দুই শিশুর কান্নাকাটির পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্নার বাবার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর ইউনিয়নের বাংলাইস গ্রামে। তাঁর বাবা নজরুল ইসলাম ও মা ফিরোজা বেগম। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বড় ভাই মোতালেব হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বপ্না খিলা বাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একাধিকবার বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছিলেন। প্রথম স্বামী ওমর ফারুকের সংসারে তাঁর দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরে বিবাহবিচ্ছেদের পর শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেরকী গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনকে বিয়ে করেন। সেই সম্পর্কও বিচ্ছেদে শেষ হয়। শাহদাতের ঘরে তার একটি কন্যা এবং একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সর্বশেষ একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজুর সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল বলে পারিবারিক সূত্র জানায়। এ ছাড়া স্বজনরা জানান, তিনি সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র চার দিন আগে তিনি নিউ লাইফ হাসপাতালের ৫ম তলায় দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। সোমবার সকালে তাঁর সঙ্গে থাকা দুই শিশু কান্নাকাটি করতে করতে নিচে নেমে এলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বাসায় গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
বাসার মালিক মেহেদী হাসান জানান, মাত্র চার দিন আগে রাসেল চৌধুরী রাজু নামে এক প্রবাসী ব্যক্তি স্বামীর পরিচয়ে তাঁর জন্য বাসাটি ভাড়া নেন।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শমশেদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এটি আত্মহত্যা নাকি মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এ মুহূর্তে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। যে দুই শিশু মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা ও নিরাপদ আশ্রয়ে বেড়ে ওঠার কথা ছিল, তারা হঠাৎ করেই সেই আশ্রয় হারিয়েছে। প্রতিবেশীরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন।
একটি অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, সমাজের কাছেও গভীর বেদনার বার্তা হয়ে আসে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান বা মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।






