মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণে আনন্দের জোয়ার, শাহরাস্তিজুড়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো এলাকা। অবশেষে মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতির খবরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। শিক্ষা অনুরাগী মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আনন্দমুখর মিলনমেলায়।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় মেহার ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগান আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শাহরাস্তি।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন,
“১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মেহার ডিগ্রি কলেজ শাহরাস্তির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারিকরণের এই সুখবর আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবতার খুব কাছে নিয়ে এসেছে। এটি শুধু কলেজের অর্জন নয়, সমগ্র এলাকার মানুষের সম্মিলিত সাফল্য।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন। সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউসুফ রূপন পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সোহেল মজুমদার এবং সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গনি।
এছাড়াও বক্তব্য দেন এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মেহার উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুনসহ অন্যান্য অতিথিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক বলেন,
“মাত্র চার মাসের মধ্যে সরকার শাহরাস্তির উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং বিভিন্ন খাল পুনঃখনন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।”
নিজের আবেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন,
“আমি মেহার ডিগ্রি কলেজকে নিজের কন্যাসন্তানের মতো ভালোবাসি। সরকারিকরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং এ অঞ্চলের শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে বৃহৎ পরিসরে একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
বক্তারা বলেন, মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস, প্রাণবন্ত স্লোগান এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর মানুষের উদ্দীপনা। শাহরাস্তিবাসীর কাছে মেহার ডিগ্রি কলেজের সরকারিকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শিক্ষা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই অর্জনকে এলাকাবাসী দেখছেন শাহরাস্তির শিক্ষা ইতিহাসের এক স্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে।










