শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু
শতবর্ষে শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
২০২৭ সালে বর্ণাঢ্য আয়োজন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
বিশেষ প্রতিনিধি, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৭ সালে বর্ণাঢ্য আয়োজন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠান সফল ও স্মরণীয় করতে এখন থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ, সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর কমিটি গঠন জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁরা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে নানা প্রস্তাব ও দিকনির্দেশনা দেন। দীর্ঘ আলোচনার পর বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি উৎসব আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।’
সভায় বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ সব প্রয়াত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি বর্তমানে জীবিত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার বিষয়েও মতামত তুলে ধরা হয়।
শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, সভায় তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁদের অবদানকে শতবর্ষ উদযাপনের কর্মসূচিতে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁদের কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। শতবর্ষের আয়োজনে তাঁর অবদান যথাযথভাবে স্মরণ ও স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে।’
সভায় বক্তারা বলেন, শতবর্ষ পূর্তি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি বিদ্যালয়ের শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্জন ও অবদানের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আয়োজনটি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় শতবর্ষ উদযাপনের সম্ভাব্য তারিখ, কর্মসূচি, অর্থায়ন, অংশগ্রহণ, স্মারক প্রকাশনাসহ সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
আয়োজকেরা শতবর্ষের এ আয়োজনকে সফল করতে বিদ্যালয়ের সব সাবেক ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।