ইসলামি ভাবধারা থেকে যেভাবে কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়েছিলেন বদরুদ্দীন উমর
ইসলামি ভাবধারা থেকে যেভাবে কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়েছিলেন বদরুদ্দীন উমর
(২০ ডিসেম্বর ১৯৩১ – ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
লেখক, গবেষক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। রবিবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন বদরুদ্দীন উমর।
গত দুই মাসে দুই দফায় শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তাকে হাসাপতালে ভর্তি করা হয়েছিলো বলে তার ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম বিবিসিকে বাংলাকে বলেন, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো। সুস্থ হওয়ার পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
অগাস্ট মাসের শেষদিকে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আরেক দফা হাসপাতালে নেয়া হয়।
বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর (২০ ডিসেম্বর ১৯৩১ – ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশি লেখক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) -এর নেতা। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
ব্যক্তিগত বিবরণ :-
জন্ম বদরুদ্দীন উমর এর জন্ম ২০ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে
বর্ধমান, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (বয়স ৯৩ বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ছিলেন। তার ২ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। তার পিতার নাম আবুল হাশিম।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, অধ্যাপক, লেখক, ইতিহাসবিদ। এবছর তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পদকে (২০২৫ সালে) ভূষিত হন।
তিনি ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বর্ধমান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ আবুল হাশিম ও মাতার নাম মাহমুদা আখতার মেহেরবানু বেগম। যদিও তার পিতা আবুল হাশিম একজন সাম্যবাদী পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধী ছিলেন, তথাপি তিনি পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯৫০ সাল থেকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। উমর ১৯৪৮ সালে বর্ধমান টাউন স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫০ সালে তিনি বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। দর্শন বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৫৫ সালে। ১৯৬১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি, পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স (পিপিই) ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন:-
প্রথমে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে। বদরুদ্দীন উমর ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয় তারই হাত ধরে এবং ১৯৬৮ সালে পদত্যাগ করেন।
তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন। তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ‘সংস্কৃতি’ নামে একটি রাজনৈতিক সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন। তিনি ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তাকে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ১৯৭৬ সালের মাঝামঝি অনুষ্ঠেয় বিশেষ কংগ্রেসের প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
তার প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা সমূহ :-
সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (১ম খণ্ড ১৯৭০, ২য় খণ্ড ১৯৭৬ ও ৩য় খণ্ড ১৯৮১)
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক (১৯৭২)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ (১৯৭৩)
বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমস্যা (১৯৭৪)
যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৬)
ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮০)
বাঙলাদেশে মার্কসবাদ (১৯৮১)
আমাদের ভাষার লড়াই, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ (১৯৮১)
বাঙলাদেশে বুর্জোয়া রাজনীতির চালচিত্র (১৯৮২)
ভারতীয় জাতীয় আন্দোলন (১৯৮৪)
মার্কসীয় দর্শন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮৬)
বাঙলাদেশের কৃষক ও কৃষক আন্দোলন (১৯৮৬)
বাঙলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কয়েকটি দিক (১৯৮৭)
বাঙলাদেশে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ধারা (১৯৮৭)
বাঙলাদেশে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার (১৯৮৯)
বাঙলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি (১৯৮৯)
সামরিক শাসন ও বাঙলাদেশের রাজনীতি (১৯৮৯)
পশ্চাৎপদ দেশে গণতন্ত্রের সমস্যা (১৯৯০)
বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লব (১৯৯০)
বামপন্থী মহলে অনৈক্য ও গণতান্ত্রিক ঐক্য প্রসঙ্গে (১৯৯১)
নববই-এর নাগরিক বুর্জোয়া অভ্যুত্থান ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৯২)
প্রতিবিপ্লব ও সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ (১৯৯২)
গণআদালত-একাত্তরের অসমাপ্ত মুক্তি সংগ্রামের জের (১৯৯২)
নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রবন্ধ (১৯৯৩)
ধর্ম, রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা (কলকাতা, ১৯৯৩)
ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে (১৯৯৪)
মুক্তি কোন পথে? (১৯৯৪)
বাঙলাদেশে গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র (১৯৯৪)
বাঙলাদেশের আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (১৯৯৪)
বাঙলাদেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য (১৯৯৪)
সাম্রাজ্যবাদের নতুন বিশ্বব্যবস্থা (১৯৯৫)
জনগণের হাতে ক্ষমতা-নির্বাচন না অভ্যুত্থান? (১৯৯৬)
আমাদের সময়কার জীবন (১৯৯৬)
নির্বাচিত বক্ততা (১৯৯৬)
বাঙলাদেশে বুর্জোয়া রাজনীতির দুইরূপ (১৯৯৭)
বাঙলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি (১৯৯৭)
বিবিধ প্রসঙ্গ (১৯৯৮)
সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্ব পরিস্থিতি (১৯৯৮)
দ্বিতীয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাঙলাদেশ (১৯৯৯)
বাঙলাদেশের বামপন্থীরা; একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে কমিউনিস্টদের রাজনৈতিক ভুমিকা (২০০০)
নির্বাচিত প্রবন্ধ (২০০০)
একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধের পথে (২০০০)
সাক্ষাৎকার (২০০১)
বাঙলাদেশে ফ্যাসীবাদ (২০০১)
শিক্ষা ও শিক্ষা আন্দোলন (২০০১)
জনগণের সংগ্রামের পথ (২০০২)
বাঙলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র (২০০৩)
সংসদীয় রাজনীতি, জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০০৩)
আমার জীবন (২০০৪)
প্যালেস্টাইন, আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৪)
আমার পিতা (২০০৫)
বাঙলাদেশে ইতিহাস চর্চা (২০০৬)
শতাব্দীর শুরুতে বাঙলাদেশের চিত্র (২০০৬)
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের জয়-পরাজয় (২০০৬)
দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৬)
বাঙলাদেশের অভ্যুদয় (১ম খন্ড ২০০৬)
কার দিন বদল হলো (২০১০)[৭]
ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থ
Politics and Society in East Pakistan and Bangladesh [পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজ] (১৯৭৩)
Society and Politics in Pakistan [পাকিস্তানের সমাজ ও রাজনীতি] (কলকাতা, ১৯৮০)
Politics and Society in Bangladesh [বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজ] (১৯৮৭)
Towards the Emergency in Bangladesh [বাংলাদেশে জরুরি অবস্থার দিকে] (১৯৮০)
Imperialism and General Crisis of the Bourgeoise in Bangladesh [বাংলাদেশে বুর্জোয়াদের সাম্রাজ্যবাদ ও সাধারণ সংকট] (১৯৮৬)
Language Movement in East Bengal [পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন] (২০০১)
Emergence of Bangladesh: Class Struggles in East Pakistan (1947-1958) [বাংলাদেশের উত্থান], অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, পাকিস্তান (২০০৪)। উল্লেখ্য, এটির প্রথম মুদ্রণ দ্রুতই নিঃশেষিত হলে দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হয়।[৮]কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, নয়া দিল্লি (২০১৭); বাঙ্গালা গবেষণা (২০২০)।
Emergence of Bangladesh: Rise of Bengali Nationalism (1958-1971), অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, পাকিস্তান (২০০৬)[৪]। পাকিস্তান সরকার ও সামরিক মহলের চাপে পড়ে গ্রন্থটির প্রকাশনা প্রকাশক অবিরত রাখতে পারে নি।[৮] বাঙ্গালা গবেষণা (২০২০)।
সম্পাদনা :-
সুকান্ত সমগ্র (১৯৭০)
ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গ : কতিপয় দলিল (১ম খন্ড ১৯৮৪ এবং ২য় খন্ড ১৯৮৫)
স্ট্যালিন প্রসঙ্গ (১৯৯০)
পার্বত্য চট্টগ্রাম : নিপীড়ন ও সংগ্রাম (১৯৯৭)
নারী প্রশ্ন প্রসঙ্গে (২০০৩)
১৯৭২ সালে বদরুদ্দীন উমর বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন, তবে তিনি তা সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার পান এবং প্রত্যাখ্যান করেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকার বদরুদ্দীন উমরকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে।[৯] কিন্তু বদরুদ্দীন উমর তা প্রত্যাখান করেন। এ নিয়ে তিনি বলেন-“১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেওয়া এই পুরস্কারও গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে আমি এটা জানিয়ে দিচ্ছি।”
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি :-
বদরুদ্দীন ওমর ২০২১ সালে বাংলাদেশের ‘দেশ টিভি’তে আসাদুজ্জামান নূর উপস্থাপিত একটি সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি আল্লাহর উপর আস্থা হারিয়েছেন। ঐ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষের এত যে দুঃখ দুর্দশা… এই যে বলা হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না ইত্যাদি। তা এখন আল্লাহর গুণ হিসেবে যা বলা হয় তিনি অত্যন্ত দয়ালু, সবজান্তা, সর্বক্ষমতাময়… এইরকম গুণসম্পন্ন অস্তিত্ব দিয়ে দুনিয়ার বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যায় না। মানুষ যে এত দুঃখ দুর্দশার মধ্যে আছে… অনেকে বলেন আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহর এই পরীক্ষা করার তো কোন দরকার ছিল না! তিনি মজা করার জন্য মানুষকে এই দুর্দশার মাঝে ফেলছেন? এটার কি কারণ? একজন মা হাসপাতালে ঢুকেছেন বাচ্চাকে বাইরে রেখে, এসে দেখলেন বাচ্চা মারা গিয়েছে। এখানে বাচ্চাটাকে মেরে কী পরীক্ষা করলেন, কী খেলা করলেন? … পরীক্ষা যত হচ্ছে গরীবের উপর দিয়েই হচ্ছে। আমি ওখানে বলেছি আল্লাহ বড়লোকদের যা দেয়ার তা ইহলোকেই দেন, আর গরীবদের যা দেয়ার তা বাকির খাতায় রেখে দেন…
মৃত্যু :-
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানান জটিলতায় আক্রান্ত বদরুদ্দীন উমর ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র :-
“বড় পটভূমির মধ্যে ভাষা আন্দোলনকে ধরতে চেয়েছিলাম”। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
“সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি”। ১০ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১১।
প্রতিবেদক, বিশেষ (৬ মার্চ ২০২৫)। “স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করবেন না বদরুদ্দীন উমর”। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২৫।
“সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি”। ২৪ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১১।
জয়নাল আবেদীন, উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদী ও বামধারার রাজনীতি প্রেক্ষিত বাংলাদেশ; বাংলাপ্রকাশ, ঢাকা; ফেব্রুয়ারি, ২০১৩, পৃষ্ঠা-৩৯৪।
হক, মনজুরুল (ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। “প্রথম অধ্যায়”। পূর্ব বাংলার সাত দশকের কমিউনিস্ট রাজনীতি (১ সংস্করণ)। ঢাকা: ঐতিহ্য। পৃ. ১০৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪৭৭৬৪১৮৭। {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: চেকসাম পরীক্ষা করুন (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)
“সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি”। ৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১১।
উমর, বদরুদ্দীন (ডিসেম্বর ২০১৪)। “১৯৭১ সালের যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তে: সামরিক অভিযান- অপারেশন সার্চলাইট”। সংস্কৃতি।
“এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৮ জন”। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২৫।
“স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করবেন না বদরুদ্দীন উমর”। দৈনিক প্রথম আলো। ৬ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২৫।
“বেলা অবেলা সারাবেলা / বদরুদ্দীন উমর এবং আসাদুজ্জামান নূর। DeshTv (29:40 minutes)”। YouTube। ১৯ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২৪।
bdnews24.com। “বদরুদ্দীন উমরের চিরবিদায়”। বদরুদ্দীন উমরের চিরবিদায় (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
বহিঃসংযোগ :-
উইকিমিডিয়া কমন্সে বদরুদ্দীন উমর সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।
উইকিউক্তিতে বদরুদ্দীন উমর সম্পর্কিত উক্তির সংকলন রয়েছে।
উক্তি সমূহ :-
মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা স্টুপিডিটি ছাড়া আর কিছু না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করা সম্ভব? যা ঘটে গেছে তাকে কোনোভাবে অস্বীকার করা সম্ভব না।
৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভিউজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেওয়া সাক্ষাৎকারে।
যুক্ত বাংলার পক্ষে আন্দোলন হলে, সেটা সফল হতো। কিন্তু সেই সময়টা ইংরেজরা দেয়নি। ১৯৪৭-এর ফেব্রুয়ারি মাসে এলেন মাউন্টব্যাটেন। আর ৩ জুনের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে গেল। কাউকে তো চিন্তা করার সময় দেওয়া হলো না। হুড়মুড় করে সব হয়ে গেল। মিছিল–আন্দোলনের সুযোগ থাকলে দেশভাগ হতো না।
৯০তম জন্মবার্ষিকীতে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
ভারত ভাগ জিন্নাহ করেননি। ভারত ভাগ করেছে কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা। ভারতের সব গ্রহণযোগ্য ইতিহাস এটা এখন স্বীকার করে। দ্বিজাতিতত্ত্ব এসেছে উনিশ শতকে, হিন্দু মেলার মাধ্যমে। নবকুমার মিত্র, রাজ নারায়ণ রায় এর প্রবক্তা। মুসলমানরা পিছিয়ে, এখন তাঁরা যদি হিন্দুদের ধরে ফেলে—সেই চিন্তা থেকেই এই দ্বিজাতিতত্ত্ব। আমি সম্প্রতি একটা লেখায় লিখেছি, হিন্দুদের দ্বিজাতিতত্ত্ব ছিল অফেনসিভ। আর মুসলমানদের যে দ্বিজাতিতত্ত্ব, সেটা ডিফেন্সিভ। গান্ধী, নেহরু, প্যাটেল দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারক। সে কারণেই ভারত ভাগের পর মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের গভর্নর জেনারেল করা হয়েছিল। এর থেকে বড় কেলেঙ্কারি কি হতে পারে।
৯০তম জন্মবার্ষিকীতে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
আমি যে ধর্মের উপর আস্থা হারালাম, ঈশ্বরের উপর, আল্লাহর উপর যে বিশ্বাসটা হারালাম এটা কোনো তত্ত্বগত চিন্তা থেকে না। এই যে মানুষের এত দুঃখ দুর্দশা… এদিকে আবার বলা হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না ইত্যাদি। তা এখন আল্লাহর গুণ হিসেবে যা বলা হয় তিনি অত্যন্ত দয়ালু, সবজান্তা, সর্বক্ষমতাময়… এই তিনটি গুণ যদি একজনের থাকে তাহলে দুনিয়ার এই জিনিসটা ব্যাখ্যা করা যায় না। মানুষ যে এত দুঃখ দুর্দশার মধ্যে আছে… অনেকে বলেন আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহর এই পরীক্ষা করার তো কোন দরকার ছিল না! তিনি মজা করার জন্য মানুষকে এই দুর্দশার মাঝে ফেলছেন এটার কী কারণ থাকতে পারে? ধরেন একজন মা তার বাচ্চাকে বাইরে রেখে হাসপাতালে গেছেন চিকিৎসা করার জন্য, এসে দেখলেন তার বাচ্চা মারা গিয়েছে। আল্লাহর যদি এই তিনটা গুণ থাকে তাহলে তিনি বাচ্চাটাকে মেরে কী পরীক্ষা করলেন, কী খেলা করলেন? আর পরীক্ষা যত হচ্ছে গরীবের উপর দিয়েই হচ্ছে। আল্লাহ বড়লোকদের যা দেয়ার তা ইহলোকেই দেন, আর গরীবদের যা দেয়ার তা বাকির খাতায় রেখে দেন। আমার এই চিন্তা থেকেই ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছি।
২০২১ সালে দেশ টিভি এন্টারটেইনমেন্ট এ আসাদুজ্জামান নূর উপস্থাপিত একটি সাক্ষাৎকারে বদরুদ্দীন উমর এই কথা বলেন।
তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া






