শাহরাস্তির চিতোষী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্রকরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া
শাহরাস্তির চিতোষী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্রকরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া
শাহরাস্তি থেকে মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াঃ শাহরাস্তির চিতোষী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাস ও বাহিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষক সহ বেশ কয়েক ব্যক্তি হামলার শিকার হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার উত্তেজনা নিরসনে শাহরাস্তি উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার এবং শাহরাস্তি থানার একদল পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হাজীগঞ্জ সেনাক্যাম্পের সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, অধ্যক্ষ, স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র জানা গেছে, বিগত ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৭ তারিখ মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এমপিও ভুক্ত অধ্যক্ষ হিসেবে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার নাসিরকোট কলেজ থেকে চিতোষী ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। বিগত সরকারের সময় উপজেলার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বন্দ্বে শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। যার ফলশ্রুতিতে বিষয়টি মামলায় গড়ায় এবং অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের এমপিও আদালতে রায়ের জন্য ঝুলে পড়ে। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেনের মামলাটি তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ আদালতে লিপিবদ্ধ হয়। একই মাসের ২৯ তারিখ আদালত ৬ মাসের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের চাকরি এমপিওভুক্ত করার আদেশ দান করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাউসিকে নির্দেশ দান করেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে বিষয়টি কিছুদিনের জন্য ঝুলে থাকলে তার রুটি রোজগার ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তাকে (অধ্যক্ষকে) এমপিওভূক্ত করার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। ওই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ২১ তারিখ মাউসির বোর্ড সভায় তার এমপিও ভুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আদেশ প্রদান করেন। একই ভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি বছরের মে মাসের ৬ তারিখে এমপিওভুক্তির পক্ষে আদেশ প্রদান করে চিঠি ইস্যু করে। সেই হিসেবে ২৪ শে মে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে অত্র কলেজে যোগদান করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট অংশীজন ও এলাকার গণ্যমান্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আহ্বান করেন। ঐ আহুত বৈঠক চলাকালে কতিপয় যুবক সভার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি ধারণ করতে গেলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায় ওই যুবকদেরকে অন্যপক্ষ বাধা দিলে বিষয়টি কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে চরম উত্তেজন সৃষ্টি করে। এ সময় বহিরাগত কিছু উৎসুক জনতা ২ শিবিরের বিভক্ত হয়ে পড়ে। এসময়ে এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা হামলা ও হাতাহাতিতে রুপ নেয়। এদিকে সৃষ্ট কাণ্ডে কলেজের শিক্ষক আবু সাঈদ ও কামরুন নাহার লিপি শারীরিকভাবে দুর্বৃত্তদের হেনেস্থার শিকার হন। একইভাবে ক্যাম্পাসের বাইরে আরোও অন্তত আট জন হামলার শিকার হন বলে জানা যায় । কলেজ অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমি আদালতের ন্যায্য বিচারে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত হয়েছি। আমার কাজ হল শিক্ষার্থীদের নিয়ে কলেজের পাঠদানের পরিবেশ প্রতিবেশ উন্নতি সাধনে কাজ করা।

উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম বিএসসি, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সদস্য সচিব এতেশামুল হক গণি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ মাসুদ হোসেন, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, ওলামাদলের সভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি এবিএম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজি, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সোহেল হোসেন প্রমুখ।






