শাহরাস্তিতে বিএনপি’র নেতা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিএনপি’র কার্যালয়ে হামলা: ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা, তদন্ত দাবি নেতা-কর্মীদের
শাহরাস্তিতে বিএনপি'র নেতা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিএনপি'র কার্যালয়ে হামলা: ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা, তদন্ত দাবি নেতা-কর্মীদের
বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি’র দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরিচিত নেতা ফখরুল ইসলাম বিলাসের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো অপপ্রচার এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। দলীয় নেতা-কর্মীরা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন এবং অপ-প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি উপজেলা ছাত্রদলের একজন সদস্য তার ফেসবুক প্রোফাইলে বিলাসের বিরুদ্ধে একটি নির্মাণাধীন স্থাপনা ‘দখল’ করার অভিযোগ তোলেন। অথচ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উক্ত জমিটি ২০ বছর আগে নির্মিত দোকানঘরসহ ৯ বছর আগে ফখরুল ইসলাম বিলাস নিজ নামে ক্রয় করেন। এতদিন পর্যন্ত উক্ত স্থাপনা ভাড়াটিয়ারা নিয়মিতভাবে বিলাসকেই ভাড়া প্রদান করে আসছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, জমিটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে কেনা এবং সেখানে নির্মাণাধীন স্থাপনাটি একটি দলীয় অফিস, যা বিলাস তার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করছেন। এটি কোনো জবরদখলের বিষয় নয়, বরং দলের প্রতি দায়িত্ববোধের নিদর্শন।
জানা যায়, বিলাস শুধু রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিজ উদ্যোগে দোকান বা জমি ভাড়া নিয়ে দলীয় অফিস এবং জিয়া পরিষদ গঠন করেছেন। রঘুরামপুরে তিনি নিজের টাকায় জমি কিনে ক্লাব উদ্বোধন করেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় ও অবদানমূলক ভূমিকার প্রমাণ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে একই ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার মাহমুদ বিএনপি’র একটি দলীয় কার্যালয় দখল করে নেন এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের সহায়তায় সেটি উচ্ছেদ করেন। বর্তমানে ফের একই ধাঁচের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করছেন তারা।
অপপ্রচারের রেশ কাটতে না কাটতেই, ২ এপ্রিল দিবাগত রাতে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে নবনির্মিত দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। অফিস উদ্বোধনের একদিন আগে এই হামলায় প্রায় ৬৮ হাজার ৫৮০ টাকার মালামাল ভাঙচুর ও চুরি হয়।
ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, “আমরা ফখরুল ইসলাম বিলাসের কাছ থেকে এই ক্লাবঘরটি পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া নেই। অফিস উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলাকালে রাতের আঁধারে এই হামলা চালানো হয়।”
তিনি চারজনের নাম উল্লেখসহ শাহারাস্তি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—মোঃ শাহাদাত হোসেন (৩২), মোঃ জহিরুল ইসলাম (৪৫), আব্দুল কাদের বাচ্চু (৫৫) ও মাহমুদ আলম (৩৫)। এছাড়াও আরও সাত-আটজন অজ্ঞাতনামাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই শাহারাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।
ফখরুল ইসলাম বিলাস বলেন, “আমি ৯ বছর আগে জমিটি কিনেছি। এতদিন তা ভাড়ায় ছিল, এখন দলের প্রয়োজনে ব্যবহার করছি। এই সময় আমাকে ঘিরে অপপ্রচার এবং হামলা এসবই একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। আমি দলের জন্য নীরবে কাজ করেছি এবং সবসময় দলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এসব অপপ্রচার ও হামলা চালানো হয়েছে, যার মাধ্যমে কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো দলকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।






