নাওড়া জামে মসজিদে জুমাতুল বিদা উপলক্ষে এদিনের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
নাওড়া জামে মসজিদে জুমাতুল বিদা উপলক্ষে এদিনের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের নাওড়া গ্ৰামের অবস্থিত “নাওড়া জামে মসজিদে’ জুমাতুল বিদা উপলক্ষে এদিনের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) বাদ আসর নামাজের পর থেকে ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে জুমাতুল বিদা’র মাহাত্ম্য নিয়ে পবিত্র কুরআন মজিদ ও হাদীসের আলোকে জুমাতুল বিদা ও মাহে রামাদানের তাৎপর্য তুলে ধরে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বচইড় বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাসুম বিল্লাহ ফয়েজী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নাওড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি পবিত্র মাহে রামাদান উপলক্ষে রামাদান মাসের প্রত্যেক শুক্রবার পবিত্র কুরআন মজিদ ও হাদীসের আলোকে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, দোয়া এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। এই ইফতার মাহফিল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ বা মুসল্লিগণ অথবা এককভাবে মুসল্লিদের মধ্যে যে কেউ এই মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবছরের রামাদান মাসের ৪র্থ শুক্রবার ও জুমাতুল বিদা উপলক্ষে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন, অত্র মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ।
জুমাতুল বিদা মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল শেষে অত্র মসজিদ উন্নয়নে আর্থিকভাবে অবদানকারী, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, এলাকার প্রয়াত মুসল্লিদের রুহের মাগফিরাত কামনা ও জীবিতদের বরকতময় জীবন দানের এবং মানবতার সেবায় যেন নিজেদেরকে আরও বেশি বেশি সময় নিয়োজিত করতে পারেন তার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অতঃপর উপস্থিত মুসল্লিগণকে মসজিদ কমিটি আয়োজিত ইফতারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

জুমাতুল বিদা উপলক্ষে বর্ণিত আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও ইফতার আয়োজনের সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন মসজিদ কমিটির সদস্য, এলাকার যুবসমাজ এবং মসজিদের মোয়াজ্জেন হাফেজ তোফাজ্জল হোসেন। উক্ত ইফতার মাহফিলে মসজিদের মুসল্লিগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আরবি শব্দ ‘জুমুআ’ অর্থ শুক্রবার এবং বিদা অর্থ শেষ। মাহে রমজানের শেষ শুক্রবারকে বলা হয় জুমাতুল বিদা। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ রামাদান মাসের শেষ জুমা হিসেবে এটি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
রামাদান ও জুমার সম্মিলন দিনটিকে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছে। এদিন মসজিদগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিশেষ মোনাজাত করেন এবং রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের জন্য প্রার্থনা করেন। বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় দিনটিকে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে। এছাড়া, দিনটি ‘আল-কুদস দিবস’ হিসেবেও পালন করা হয়, যখন মুসলমানরা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে সচেতনতা বৃদ্ধি করেন।
জুমার দিন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’- (সূরা আল জুমুআহ: ৯)
জুমার দিন মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন দোয়া করলে তা কবুল হয়। ধারণা করা হয়, এ মুহূর্তটি আসর থেকে মাগরিবের মাঝামাঝি সময়।
জুমাতুল বিদার বিশেষ বিশেষত্ব হচ্ছেঃ-
১. রমজানের শেষ জুমা হওয়ার কারণে এটি বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
২. পবিত্র জুমার দিন হওয়ার কারণে এটি স্বতন্ত্র মর্যাদাসম্পন্ন।
৩. রমজানের শেষ শুক্রবারে মুসলমানরা পবিত্র মসজিদ আল-আকসা প্রতিষ্ঠার স্মরণে ‘আল-কুদস দিবস’ পালন করেন।
৪. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সর্বোত্তম দিনগুলোর একটি, যেদিন আদি পিতা হজরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। -(মিশকাত)।
জুমার দিনের সুন্নত আমলঃ-
১. ভালোভাবে গোসল করা।
২. পরিষ্কার পোশাক পরা।
৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৪. মসজিদে আগে গিয়ে বসা।
৫. ইমামের কাছাকাছি বসে খুতবা শোনা।
৬. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
৭. দুই খুতবার মাঝে নীরব থাকা।
৮. ফজরের পর থেকে বেশি বেশি ইস্তেগফার ও জিকির করা।
জুমার নামাজের গুরুত্বঃ-
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে ভালোভাবে গোসল করবে, আগে আগে মসজিদে যাবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে, মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবে এবং কোনো অনর্থক কাজ করবে না, সে ব্যক্তি প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নামাজ ও রোজার সওয়াব লাভ করবে।’- (সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে আবু দাউদ)
জুমাতুল বিদা শুধু রমজানের শেষ শুক্রবার নয়, এটি আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। মুসলমানদের উচিত এদিন বেশি বেশি ইবাদত করা, গরিব-দুঃখীদের সহায়তা করা এবং নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য দোয়া করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই ফজিলতপূর্ণ দিনের সঠিক মর্যাদা বোঝার এবং যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন – আমিন।






