শাহরাস্তিতে মীম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ‘শুধু একজন নয়, জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনুন’—স্বজনদের আকুতি
শাহরাস্তিতে মীম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ‘শুধু একজন নয়, জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনুন’—স্বজনদের আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : একটি পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেছে, দুটি অবুঝ শিশুর মাথা থেকে সরে গেছে মায়ের স্নেহের ছায়া। সেই শোক আর বেদনা বুকে নিয়েই চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মীম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষের কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি—বিচার যেন কেবল একজন অভিযুক্তকে ঘিরে সীমাবদ্ধ না থাকে; তদন্তে যদি আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাঁদেরও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নিহত মীমের বাবা মো. কবির হোসেন ও মা শামছুন নাহার আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, তাঁদের মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। একজন সন্তানের মৃত্যু কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তাঁরা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি, এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে নিহতের জেঠাতো ভাই গোলাম কিবরিয়া ও রায়হান, চাচা-চাচিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রত্যেক দায়ী ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা হলে তবেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
বাত্তলা গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কারও যেন দায় এড়ানোর সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে কয়েকজন বক্তা তদন্তের সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তবে তাঁরা এটিও উল্লেখ করেন, এসব তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত; ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করবে তদন্তকারী সংস্থা।
শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, সমাজে এমন নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে অপরাধী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারই মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টা থেকে তিনটার মধ্যে কোনো এক সময়ে রিগান আক্তার মীম নিহত হন। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন শাহরাস্তি মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২৫) দায়ের করেন। পরে ১৬ জুলাই মামলার আসামি কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই জবানবন্দিতে তিনি শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
মানববন্ধনের শেষভাগে বক্তারা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি। প্রয়োজনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর মাধ্যমে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
শোকাহত স্বজনদের চোখের জল আর উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত একটাই প্রত্যাশা—বিচার যেন বিলম্বিত না হয়, সত্য যেন আড়াল না থাকে, আর কোনো পরিবার যেন এমন নির্মম শোকের ভার বহন করতে না হয়।






