নীরবে মানুষের পাশে মহি উদ্দিন রিপন পাটোয়ারী: মানবিক উদ্যোগে বদলে দিচ্ছেন আস্থার গল্প
নীরবে মানুষের পাশে মহি উদ্দিন রিপন পাটোয়ারী: মানবিক উদ্যোগে বদলে দিচ্ছেন আস্থার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : কেউ আলোচনায় আসতে চান প্রচারের আলোয়, আবার কেউ মানুষের মুখের হাসিতেই খুঁজে নেন নিজের সার্থকতা।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের সমাজসেবক মো. মহি উদ্দিন রিপন পাটোয়ারী দ্বিতীয় পথটিকেই বেছে নিয়েছেন। নিভৃতচারী স্বভাবের এই মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন মানবিক নানা উদ্যোগ। ফলে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি এখন আস্থা, সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের এক পরিচিত নাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের হাড়াইরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহি উদ্দিন রিপন পাটোয়ারীর বাবা মো. আবদুস ছাত্তার পাটোয়ারী এবং মা বিলকিস বেগম। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি শোরসাক বাজারের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে পূর্বদিকে সূচিপাড়া সড়কের পাশে হাড়াইরপাড়া পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।
মানুষের প্রয়োজনের মুহূর্তেই তাঁর ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। অসচ্ছল রোগীর চিকিৎসা সহায়তা, বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পবিত্র রমজানে ইফতারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কিংবা আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজ তিনি করে যাচ্ছেন নিয়মিত, অনেক সময়ই নীরবে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করেছেন তিনি। পাশাপাশি শোরসাক ১৮ নম্বর যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চেয়ার-টেবিল, ওয়াশ ব্লক, খেলাধুলার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেছেন। চেড়িয়ারা উচ্চবিদ্যালয় এবং এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসায়ও নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন।
ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর সম্পৃক্ততা চোখে পড়ে। ক্রিকেট ও ফুটবলসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা, তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার পাশাপাশি অসচ্ছল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তার হাতও বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সামাজিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে তিনি একটি স্থানীয় মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
মো. মহি উদ্দিন রিপন পাটোয়ারী বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, মানুষের কল্যাণই আমার একমাত্র লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে পারলে সেটিই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। তবে প্রচারের চেয়ে মানুষের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে যে মানবিক চর্চা মহি উদ্দিন রিপন পাটোয়ারী অব্যাহত রেখেছেন, তা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি একই নিষ্ঠায় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন এবং মানবসেবায় আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবেন।






