দুই দিনে তিন অভিযান, শাহরাস্তিতে ৫১ ইয়াবা ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
দুই দিনে তিন অভিযান, শাহরাস্তিতে ৫১ ইয়াবা ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
চারজনকে গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের; বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে অব্যাহত
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি থেকেঃ একটি সমাজকে নীরবে গ্রাস করে মাদক। এটি শুধু একজন মানুষকে নয়, ভেঙে দেয় একটি পরিবার, ক্ষয় করে সামাজিক বন্ধন, আর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। সেই বাস্তবতায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে আরও জোরালো অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে উপজেলার তিনটি স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫১টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। এসব ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান–এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থানার একাধিক দল গত ৮ ও ৯ জুলাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের প্রতিটি ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রথম অভিযানে গত ৮ জুলাই রাতে উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর এলাকার সাতবাড়ীয়া নূরানী মাদ্রাসার সামনের সড়কে অভিযান চালান এসআই (নিরস্ত্র) শফিকুল ইসলাম ও এএসআই (নিরস্ত্র) মো. আজাদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। এ সময় জসিম উদ্দিন (৩৭) ও মো. ইয়াছিন (৪১) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের হেফাজত থেকে ৫১টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ জুলাই শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
একই দিন আরেকটি অভিযানে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া এলাকায় নুর আলমের বাড়ির সামনের সড়কে অভিযান চালান এসআই (নিরস্ত্র) খায়রুল আলম ও এএসআই (নিরস্ত্র) শহীদুল্লাহ। সেখানে মো. রফিক (৩৯) নামে একজনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, তার কাছ থেকে ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায়ও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর পরদিন, ৯ জুলাই রাতে চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের চিতোষী আর.এম. স্কুলসংলগ্ন এলাকায় আবারও অভিযান চালায় শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। এসআই (নিরস্ত্র) শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে হাবিবুর রহমান (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জুলাই আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
তিনটি অভিযানের পর গ্রেপ্তার চারজনকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতার’। তাঁর ভাষ্য, “মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের বাইরে নয়। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মাদক নির্মূলে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে এই অভিযান আরও কার্যকর হবে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শাহরাস্তিতে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতি এসেছে। তবে তারা বলছেন, শুধু গ্রেপ্তার বা মামলা নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহচক্র ও অর্থায়নের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে এ ধরনের অভিযান আরও ফলপ্রসূ হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে পুরোপুরি মুক্ত করা কঠিন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, শাহরাস্তিতে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক কর্মসূচিতে পরিণত হবে। তবেই একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তব রূপ পাবে।






