চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার–সিলেটে সরাসরি ট্রেনের পথে অগ্রগতি
দুই সংসদ সদস্যের আবেদনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে
বিশেষ প্রতিবেদক, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : চাঁদপুর থেকে সরাসরি কক্সবাজার কিংবা সিলেটে ট্রেনে যাওয়ার যে স্বপ্ন জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছেন, সেটি বাস্তবায়নের পথে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ এবং চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হকের যৌথ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু এবং পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন(রবিবার) প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত (স্মারক নং: ০৩.০০.২৬৯০.০০০.০০৫.১৪.০০০১.২৬-২২৭) এক পত্রে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, দুই সংসদ সদস্য একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। আবেদনে কক্সবাজার ও সিলেটগামী নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পাশাপাশি অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর অনুরোধ জানানো হয়। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুরবাসীর এই দাবি বহু বছরের। বর্তমানে কক্সবাজার কিংবা সিলেটে যেতে জেলার যাত্রীদের একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী এবং পর্যটকদের জন্য এ ভোগান্তি দীর্ঘদিনের।
এ ছাড়া অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর দাবিও স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। তাঁদের আশা, নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো ট্রেনগুলোও পুনরায় চালু হলে চাঁদপুরের রেল যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে এবং জেলার অর্থনীতি, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, “চাঁদপুরের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও সহজ, আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের আবেদনের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক বলেন, “চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। জেলার উন্নয়নে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি।”
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রুটের সম্ভাব্যতা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা, কোচের প্রাপ্যতা এবং পরিচালনাগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে শিগগিরই চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু হবে।






