শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক-গভর্নিং বডির ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক-গভর্নিং বডির ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়।
চাঁদপুরের শাহরাস্তির চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রাণবন্ত সমাবেশ, শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের অঙ্গীকার।
বিশেষ প্রতিনিধি | শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে :
একটি আলোকিত জাতি গঠনের প্রথম ভিত্তি রচিত হয় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে। আর সেই ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রয়োজন শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের আন্তরিক সমন্বয়। এই বিশ্বাসকে হৃদয়ে ধারণ করে “শিক্ষক-অভিভাবকের সম্মিলিত শক্তি শিক্ষায় বয়ে আনবে সমৃদ্ধি ও মুক্তি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার শোরসাকস্থ চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষক, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির এক ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রাণবন্ত সমাবেশ।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজির আহমেদ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন নূরুল আজম সোহাগ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক খায়রুল এনাম, ধর্মীয় শিক্ষক হাফেজ আবু ইউসুফ, চেড়িয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম দেওয়ান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবুর রহমান (সেলিম), কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য তাফাজ্জল হোসেন মিয়াজী এবং কলেজ শাখার অধ্যক্ষ আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি, বিশিষ্ট দানবীর ও শিল্পপতি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদ যদি একই লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেন, তবেই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন শুধু সম্ভবই নয়—তা হবে টেকসই, অনুকরণীয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সফলতার পেছনে কেবল শিক্ষকের নিষ্ঠাই নয়, পরিবারের সচেতনতা এবং গভর্নিং বডির দায়িত্বশীল ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার প্রতিটি ধাপে সকল পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
সমাবেশে জানানো হয়, বর্তমানে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে ১৪২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের নৈতিক শিক্ষা, সুশিক্ষা, শৃঙ্খলা ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করতে শিক্ষক-অভিভাবকের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
উৎসবমুখর ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সুধীজনের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। উপস্থিত সবার প্রত্যাশা—এ ধরনের নিয়মিত মতবিনিময় সভা শুধু শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিই নয়, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষক, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির এই ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকারই হতে পারে একটি আলোকিত, মেধাবী ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।






