শ্রেণিকক্ষ সংকটে ধুঁকছে কাদরা কর্ণপাড়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা
শ্রেণিকক্ষ সংকটে ধুঁকছে কাদরা কর্ণপাড়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা
নতুন ভবন, আধুনিক ওয়াশ ব্লক ও অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি : একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারখানা। অথচ দীর্ঘ তিন দশকের শিক্ষা-ঐতিহ্য বহনকারী চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের কাদরা কর্ণপাড়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা আজ অবকাঠামোগত সংকট, শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে নীরবে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষকরা শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক পরিবেশের অভাবে শিক্ষার স্বাভাবিক মান ব্যাহত হচ্ছে।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি এলাকার মানুষের দান-অনুদান ও সরকারি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পরিচালিত হওয়ার পর ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এবতেদায়ী শাখায় ১১৩ এবং দাখিল শাখায় ২৪৪ জনসহ মোট ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক, একজন তৃতীয় শ্রেণির এবং চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪২ থেকে ৫২ শতাংশের মধ্যে। ঐদিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ২২ জন। একই চিত্র দেখা গেছে সপ্তম শ্রেণিতেও। ওইদিন দুইজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারীও অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে একজন শিক্ষক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন থাকলেও অপর একজন অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসার সুপার মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, দীর্ঘ ছুটির পর ক্লাস শুরু হওয়ায় উপস্থিতির হার কিছুটা কম ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী মনোহরগঞ্জ ও রামগঞ্জ উপজেলা থেকে আসে। কিন্তু মাদ্রাসার পাশের মহেন্দ্র খালের ওপর প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় নরপাইয়া, কাশৈর, তালতলাসহ কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ইবতেদায়ী শাখায় উপবৃত্তি না থাকাও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রায় ৭৫ শতাংশ নিজস্ব জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও মাদ্রাসাটিতে একটি একতলা ভবন ছাড়া অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য পৃথক ও মানসম্মত ওয়াশরুম না থাকায় প্রতিদিনই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি মাদ্রাসা নয়, বরং শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন গড়ে ওঠার অন্যতম ভিত্তি। তাই দ্রুত একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, আধুনিক ওয়াশ ব্লক এবং শিক্ষা-সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের আন্তরিক সহযোগিতায় কাদরা কর্ণপাড়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটি একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে। কারণ আজকের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা মানেই আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা।






