শাহরাস্তিতে ক্ষোভের বিস্ফোরণ! বখাটে সবুজের বিরুদ্ধে শত শত মানুষের বিক্ষোভ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল বড়তুলা বাজার
শাহরাস্তিতে ক্ষোভের বিস্ফোরণ! বখাটে সবুজের বিরুদ্ধে শত শত মানুষের বিক্ষোভ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল বড়তুলা বাজার
বিশেষ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ যেন এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত হলো। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা বাজার শনিবার (৬ জুন) বিকেলে পরিণত হয় প্রতিবাদের জনসমুদ্রে। নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ—সবাই এক কণ্ঠে উচ্চারণ করেন একটি নাম, আর সেই নামের বিরুদ্ধে ধ্বনিত হয় প্রতিবাদের বজ্রকণ্ঠ— ফজলে রাব্বী সবুজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই!
মানববন্ধনের ব্যানারে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ যেন তাদের বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘদিনের কষ্ট, ক্ষোভ আর বঞ্চনার কথা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা কৌশলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। ফলে এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি বলেন, “আমরা আর নীরব থাকতে পারিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।”
ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ। অভিযুক্তের শাশুড়ি মুঠোফোনে জানান, তার মেয়ে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছেন।
তবে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয় আফ্রিকা প্রবাসী লোকমান হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, গত ২৯ মে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে লোকমান হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রবাসী লোকমান হোসেনের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ আর বেদনার মিশ্রণ। তিনি অভিযোগ করেন, “দেশে ফেরার পর আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমি, রবিন ও সাহেদ গুরুতর আহত হই।”
স্থানীয়দের মতে, লোকমান হোসেন একজন মানবিক ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় পরিচিত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে সহযোগিতার জন্য তিনি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। এমন একজন মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পুরো এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল খালেক বলেন, “সবুজের কর্মকাণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ। প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। পরে গ্রাম্য সালিশে সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অনেকেই দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এবং বর্তমানে ভিন্ন পরিচয়ে একই ধরনের আধিপত্য বিস্তার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তাদের মতে, শাহরাস্তিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত বড় পরিসরে স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ খুবই বিরল ঘটনা।
প্রতিবাদী জনতার কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয়েছে একটাই দাবি— “অন্যায়ের বিচার চাই, দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ তাদের ভাষায়, “আজকের এই মানববন্ধন শুধু একজনের বিরুদ্ধে নয়, এটি অন্যায়, ভয়ভীতি আর হয়রানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ।”






