সোনাপুর ঐতিহাসিক জামে মসজিদে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা, ১২ জুন ঘোষণা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি
সোনাপুর ঐতিহাসিক জামে মসজিদে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা, ১২ জুন ঘোষণা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি
বিশেষ প্রতিনিধিঃইতিহাস কখনও শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতের পথচলারও প্রেরণা। সেই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ঈমানি চেতনার এক অনন্য সাক্ষী সোনাপুর ঐতিহাসিক জামে মসজিদ। ব্রিটিশ আমলের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে সোনাপুর, নাওড়া, কাজিরকাপ ও ভোলদিঘী গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইবাদত, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক বন্ধনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই মসজিদটি। যুগের পর যুগ ধরে এটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং চার গ্রামের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন, ঐক্যের প্রতীক এবং আধ্যাত্মিক আলোকবর্তিকা হিসেবে আপন মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।
সময়ের পরিক্রমায় সেই গৌরবোজ্জ্বল ধারাবাহিকতাকে আরও সুদৃঢ়, গতিশীল ও যুগোপযোগী করার প্রত্যয়ে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে সোনাপুর ঐতিহাসিক জামে মসজিদের নতুন পরিচালনা কমিটি।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজসেবক ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব মোঃ আবুল হোসেন পাটওয়ারী (লাভলু), সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ এমরান হোসাইন মজুমদার এবং মসজিদের মোতাওয়াল্লীর গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে খালেদ আহমেদ পাটওয়ারীর উপর।
আগামী ১২ জুন (শুক্রবার), জুমার নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ উপলক্ষে মসজিদের সকল মুসল্লি, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীকে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ এমরান হোসাইন মজুমদার।
এদিকে বিদায়ী মোতাওয়াল্লী ডাঃ মোঃ শাহ জাহান, যিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন— “মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ সময়ে যদি কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে সবাই তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”
তিনি আরও জানান, গত ২৮ মে+বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আযহার জামায়াতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং নব-নির্বাচিত মোতাওয়াল্লী খালেদ আহমেদ পাটওয়ারী, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন পাটওয়ারী (লাভলু) ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ এমরান হোসাইন মজুমদারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সোনাপুর ঐতিহাসিক জামে মসজিদ কেবল ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবেই নয় বরং দ্বীনি শিক্ষা, সামাজিক কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও নৈতিক মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
আজ যখন সমাজ নানা বিভাজন, স্বার্থপরতা ও মূল্যবোধের সংকটে আক্রান্ত, তখন সোনাপুর ঐতিহাসিক জামে মসজিদ যেন আবারও সোনাপুর গ্রামের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেওয়ার নতুন অঙ্গীকারের বার্তা দিচ্ছে। ঐক্য, সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গড়ে উঠুক একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও আলোকিত সমাজ।
সোনাপুরের আকাশে আজ যেন নতুন প্রত্যয়ের সুর ভেসে বেড়াচ্ছে—”মসজিদ কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এটি একটি জাতির ঈমান, একটি সমাজের ঐক্য এবং মানবকল্যাণের চিরন্তন বাতিঘর।” আর সেই বাতিঘরের আলোকে ধারণ করেই শুরু হলো সোনাপুর ঐতিহাসিক জামে মসজিদের নতুন অধ্যায়।






