শাহরাস্তিতে চিকিৎসকের অভাবে বন্ধের পথে টামটা-মেহের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র: ফুঁসে উঠছে ক্ষুব্ধ জনতা, ঈদের পর আন্দোলনের ডাক!
শাহরাস্তিতে চিকিৎসকের অভাবে বন্ধের পথে টামটা-মেহের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র: ফুঁসে উঠছে ক্ষুব্ধ জনতা, ঈদের পর আন্দোলনের ডাক!
বিশেষ প্রতিনিধি, শাহরাস্তি (চাঁদপুর): গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত হয়েও শুধু জনবলের অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা-মেহের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। কাগজে-কলমে চিকিৎসক ও স্টাফ থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালটি এখন প্রায় শূন্য। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ বাড়ছে হাজারো সাধারণ মানুষের মনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী ঈদুল আজহার পর এক বিশাল আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকগণ।
মহাসড়কের পাশে গুরুত্বহীন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হাসপাতাল! : টামটা-মেহের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি মেহের বাস স্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনের ঠিক মাঝখানে, মহাসড়কের একদম পাশেই অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত অসহায় ও দরিদ্র রোগী এখানে চিকিৎসার আশায় ছুটে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে প্রতিনিয়ত চোখের জল ফেলে ক্ষোভ ও দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের।
কাগজে-কলমে চারজন, কিন্তু বাস্তবে শূন্য! :
জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO), একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন এলএমএসএস (নিয়োগ) দেওয়া আছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো!
মেডিকেল অফিসার (এমবিবিএস): দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডাঃ নূর নবী অজ্ঞাত কারণে হাসপাতালে আসেন না বললেই চলে।
উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার : ডাঃ দিদারুল আলম দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অতিসম্প্রতি শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে (জ্বরের রোগীকে কুকুরের কামড়ের ইনজেকশন দেওয়া) সৃষ্ট জটিলতায়, শাস্তিস্বরূপ সেই চিকিৎসককে বদলি করা হয়। আর তার শূন্যস্থান পূরণ করতে টামটা-মেহের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিষ্ঠাবান ডাক্তার দিদারুল আলমকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেপুটেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে!
ফার্মাসিস্ট: এলাকার গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ফার্মাসিস্ট সিরাজুল ইসলামকেও এখান থেকে সরিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। অথচ ডাক্তার না থাকলেও তিনি অন্তত রোগীদের প্রাথমিক ঔষধ ও পরামর্শ দিতে পারতেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর আর্তনাদ : “আমাদের এলাকার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি। কিন্তু শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজনের ভুলের শাস্তি কেন আমাদের ভোগ করতে হবে? আমাদের ডাক্তারকে কেন ছিনিয়ে নেওয়া হলো?”
প্রশাসনের নীরবতা ও আলটিমেটাম : টামটা-মেহের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই বেহাল দশা দূর করতে এবং স্থায়ী চিকিৎসকের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছে টামটা-মেহের এলাকার মানুষ। এলাকার সচেতন মহল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন “ঈদুল আজহার আগে যদি এখানে স্থায়ীভাবে মেডিকেল অফিসার বা উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারকে পদায়ন না করা হয়, তবে ঈদের পর সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা।
সচেতন নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ: এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্তৃপক্ষের চোখ খুলতে পোস্টটি সর্বোচ্চ শেয়ার করে সবার নজরে আনুন।






