ভুল চিকিৎসায় আতঙ্ক: জ্বরের বদলে শিশুকে জলাতঙ্কের টিকা বদলীই এর শাস্তি!
ভুল চিকিৎসায় আতঙ্ক: জ্বরের বদলে শিশুকে জলাতঙ্কের টিকা বদলীই এর শাস্তি!
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ উন্নত সেবার আশায় ভিড় করেন শাহরাস্তি উপজেলা ছাড়াও আশেপাশের হাজীগঞ্জ, কচুয়া, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও রামগঞ্জ উপজেলার মানুষ। কিন্তু সেই আস্থার জায়গায় এখন বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক ও হতাশা। জ্বর নিয়ে আসা এক শিশুকে কুকুরের কামড়ের (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন দেয়ার মতো হাড়হিম করা ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— হাসপাতাল কি সেবা দিচ্ছে নাকি জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে?
ঘটনার নেপথ্যে: কী ঘটেছিল সেই দিন?
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুকে জ্বরের চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন তার অভিভাবকরা। কিন্তু কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার জ্বরের ওষুধের বদলে শিশুটিকে দিয়ে বসেন কুকুরের ভ্যাকসিন! বিষয়টি জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
শাস্তি নাকি প্রহসন?
এই ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দায়ী চিকিৎসককে কেবল অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছে। এই ‘লঘুদণ্ড’ মানতে নারাজ সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের জোয়ার উঠে :
”গুরু পাপে লঘুদণ্ড!” — ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
অনেকের মতে, এমন জীবনঘাতী ভুলের পর ওই চিকিৎসকের সরকারি চাকরিতে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।
সেবার মান বনাম চরম অব্যবস্থাপনা
আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসা এই শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যদিও এখানকার চিকিৎসকদের আন্তরিকতা নিয়ে আগে সুনাম ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনবল সংকট এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সেই চিত্র বদলে গেছে।
”এই এলাকার খেটে-খাওয়া মানুষের বড় শহরে গিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই। সরকারি এই হাসপাতালটিই আমাদের শেষ ভরসা। সেখানে যদি এমন ভয়াবহ ভুল হয়, তবে আমরা যাব কোথায়?” — বলছিলেন এক ভুক্তভোগী অভিভাবক।
কর্তৃপক্ষের প্রতি জিজ্ঞেসা :
ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসলেও সাধারণ মানুষের মনের সন্দেহ সহজে দূর হচ্ছে না। এর সুরাহা কি কেবল একটি বদলিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ ভুল রোধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
চিকিৎসাসেবা নিয়ে তৈরি হওয়া এই আস্থার সংকট কাটাতে এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই এটা বুঝতে যে— সেবার নামে গাফিলতি আর সহ্য করবে না সাধারণ মানুষ।
যে বিষয়গুলোর উপর নজরদারি বাড়াতে হবে : সেবা নিতে আসা রোগীদের টাকাপয়সা স্বর্ণালংকার চুরি রোদ কল্পে উদ্যোগ নেয়া, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিক্যাল পারসন এর শূন্যপদ পূরণ, নির্দিষ্ট সময় পরে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের ভিজিটে অনুমতি প্রদান, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করা,বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি ঠিক রাখার ব্যবস্থা করা।






