আমি আমার বাকি জীবন এলাকার ও দেশের মানুষের প্রয়োজনে বিলিয়ে দেব’ : রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি
বিশেষ প্রতিনিধি, শাহরাস্তি চাঁদপুর থেকে : ‘আমি আমার বাকি জীবন এলাকার ও দেশের মানুষের প্রয়োজনে বিলিয়ে দেব।’ ৩০ মে (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনী এলাকায় সফরে আসেন চাঁদপুর (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) -৫ আসনের সাংসদ মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। এই সফরসূচিতে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নির্বাচনী এলাকায় এটি ছিল তাঁর ১১তম সফর।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনী এলাকায় গরু চুরি অনেক বেড়ে গেছে। তাই গরু চুরি বন্ধে পৌর মেয়র-কমিশনার ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরকে নৈশকালীন চৌকিদার নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হল। তাদের কাজে রাতে থানার টহল পুলিশ সহায়তা প্রদান করবে। দুই উপজেলায় রাতে মাল বাহি যে সকল ট্রাক চলাচল করে তা গভীর নিরীক্ষণে রাখতে হবে।এছাড়াও গরু চুরি বন্ধে আরো বাস্তব সম্মত উপায় খোঁজার জন্য উদ্যোগ নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিয়ম নীতি না মেনে আবাদী জমি থেকে মাটি কাটার ফলে বাংলাদেশের কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে টের পাওয়া যাবে। দেশে বর্তমানে ১০ থেকে ১২ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য আমদানি করতে হয়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যাবে। এবিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তাঁর নির্বাচনী এলাকার শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবিষয় নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়। অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র এলাকার আবাদী জমি থেকে টপসয়েল কাটার ফলে আমরা অনুভব করছি ইতিমধ্যে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের অনেক জমি আবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আজ আমরা যে সমস্যাগুলো অনুভব করছি এ সমস্যার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা দায়ী। তারা যদি সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন আজকে আমরা এমন সমস্যার মধ্যে পড়তাম না। এখন আমরাও যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেই তবে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে দায়ী করে বলবে আমরা তাদের জন্য উপযুক্ত বাংলাদেশ রেখে যাইনি। তারা একইভাবে আগামী ২০ বছর পর আমাদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করবে। তাই আমাদেরকে এবিষয়ে একটি কঠিন অথচ বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্তে নিতে হবে। তিনি বলেন, এলাকার পৌর মেয়র-কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা সতর্ক হলে কেউ আবাদী জমির টপসয়েল কেটে নিয়ে যেতে পারবেনা। অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বাররা হয়তো জানেন না যে, কোন নাগরিক অন্য একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করার অধিকার রাখেন। যদি সে দেখে যে কোন নাগরিক অপরাধে জড়িত রয়েছে। এটা পেনাল কোডে উল্লেখ আছে। তাই সংশ্লিষ্ট মেয়র-কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগনকে এবিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেককে প্রশ্ন করি, আমি কি আমার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছি, নাকি সরকারি বেতন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অবহেলায় দিন কাটাচ্ছি? তাহলে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আমরা সবাই বুঝতে পারবো।
এসময় তিনি দুই উপজেলার খালের তালিকা প্রস্তুত করে ও যে সকল খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে তা উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উভয় উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
এমপি অভিযোগ করে বলেন, শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ উপজেলার যততত্র রাস্তা থেকে খেয়াল খুশি মত সিএনজি অথবা যানবাহন থেকে খেয়াল খুশি মতো চাঁদা তোলা হয় এটা চলতে দেয়া যাবে না। এর জন্য অবশ্যই একটি নীতিমালা থাকতে হবে। প্রয়োজনে মাসিক অথবা বাৎসরিকভাবে চাঁদা উত্তোলন করা যেতে পারে। কোন কোন রাস্তা থেকে চাঁদা তোলা হবে তা উপজেলা প্রশাসনে সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বরাদ্দের টিআর/কাবিটার প্রকল্পের সম্পাদিত কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তার তদারকি বাড়াতে হবে। শাহারাস্তি-হাজীগঞ্জ উপজেলার জন্য কাবিটা প্রকল্পের আওতায় নতুন করে যে বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে তা উভয় উপজেলায় কিভাবে দ্রুততম সময়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তার একটি পরিকল্পনা সত্তর গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বয়কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উক্ত সফরে দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসাবে সকাল ১১ টায় শাহরাস্তি উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে আর্থিক অনুদান প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
শাহরাস্তি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়াসিন আরাফাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌসিফ উদ্দিন।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল, শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুর রশিদ, শাহরাস্তি পৌর মেয়র হাজী আব্দুল লতিফ, হাজীগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন, শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল, শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শাহরাস্তি উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।






