শাহরাস্তিতে রেলের জায়গা নাবায়ন করেও স্টেশন মাস্টারের রোষানলে প্রতিবন্ধী পরিবার
শাহরাস্তিতে রেলের জায়গা নাবায়ন করেও স্টেশন মাস্টারের রোষানলে প্রতিবন্ধী পরিবার(ছবিটি প্রতিকী)
বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তি মেহের স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলামের রোষানলে পড়ে আতংকে দিন কাটছে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের। ৩০ বছর ধরে ৩১ শতাংশ রেলের কৃষি সম্পত্তি লীজ নিয়ে নিয়মিত নবায়ন করছেন দেলোয়ার হোসেন ও তার প্রতিবন্ধী পরিবার।
অতি সম্প্রতি ঐ স্টেশন মাস্টারের সাথে বাক-বিতন্ডার পর সমঝোতা হলেও পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নিতে বিষয়টি নিয়ে মামলা করার পর এখন উচ্ছেদ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। এমন অভিযোগ মেহের স্টেশন সংলগ্ন বসবাসকারী দেলোয়ার হোসেন গংরাদের।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন জানান, তার স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর এখানে বসবাস করে আসছেন তিনি। ৩১ শতাংশ কৃষি জায়গা লীজ আনার পর প্রতি বছর নবায়ন করা হয়। এখনও ২০২৫ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা আছে। তারপরও হঠাৎ করে রেল কর্তৃপক্ষ দুইটি নোটিশ ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ করে তাকে। এখানে ১ থেকে দেড় শতাংশে তারা ভরাট করে একটি টিনসেড ঘর করে থাকছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন কুল-কিনারাহীণ দেলোয়ারের পরিবার।
এদিকে মেহের স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলামের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রেলের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেন এই ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৫ থেকে ১৮ বছর ধরে ঘুরেফিরে এই স্টেশনে আছেন রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন চিতোষী ও মেহের স্টেশনের মাস্টারের দায়িত্বে থাকায় রেলের জায়গা রক্ষণাবেক্ষণের নামে বিক্রি ও লীজ বাণিজ্য, নবায়ন বাণিজ্য করে আসছে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেহের স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, সে (দেলোয়ার) আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ করেছে আপনি যদি এটার সত্যতা পান তাহলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক রেল কর্তপক্ষ। আমি এসবের সাথে জড়িত নই, আমি এগুলো করি না। সে কৃষি লিজ নিয়ে অবৈধ ভাবে বসতবাড়ি করেছে, এখন তার এগুলো উচ্ছেদ করতে হবে এজন্য সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ করছে। উনি একটার পর একটা অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করে কিন্তু কোনোটার সত্যতা প্রমাণ করতে পারে নি। গত কয়েকদিন আগে ওনার স্ত্রী আর বৌ আমার অফিসে এসে হামলা করেছে এবং শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) করতে আসলে তাদের সামনে আমার গায়ে হাত তুলেছে। মুলত আমার উপর সে ক্ষিপ্ত কারণ সে কৃষি লিজ নিয়ে অবৈধ ভাবে বসতবাড়ি করেছে আমি তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এখন সব উচ্ছেদ হবে তাই এমন বানোয়াট অভিযোগ করছে।
টানা ১০-১৫ বছর একই স্থানে কর্মরত কিভাবে আছেন এবিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, টানা ১০-১৫ বছর নয় মাঝখানে একাধিকবার আওয়ামী লীগের দোষররা আমাকে রাজনৈতিক কারনে বদলী করেছে। আর আমি বার বার এখানে আসার চেষ্টা করি আমার বাচ্চারা এখানে লেখা-পড়া করে সেকারনে। কয়েকবার আমি অন্য জেলা-উপজেলায় দায়িত্ব পালন করে এসেছি। মুলত আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।






