শাহরাস্তিতে মহিলা মাদরাসা কমিটি নিয়ে তোলপাড়: সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে মানববন্ধন
শাহরাস্তিতে মহিলা মাদরাসা কমিটি নিয়ে তোলপাড়: সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে মানববন্ধন
বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বলশিদ মহিলা মডেল আলিম মাদরাসার নতুন কমিটি নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলামকে সভাপতি করার পর থেকেই এই বিতর্ক শুরু হয়। তার পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা এবং ইতিমধ্যে কমিটির তিনজন সদস্য পদত্যাগও করেছেন।
কেন এই বিতর্ক? :-
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসার কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ ও গোপন। তারা বলছেন, মাদরাসার নাম তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথমে “ফজিলতের নেছা মহিলা মাদরাসা” পরে “শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা মাদরাসা” এবং বর্তমানে “বলশিদ মডেল মহিলা আলিম মাদরাসা” নাম রাখা হয়েছে। যদিও মাদরাসার ফটকে এখনও আগের নামফলকই ঝুলছে।
এছাড়াও সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ গুলো হচ্ছে:-
(১) তিনি একসাথে একাধিক মাদরাসার দায়িত্ব পালন করছেন।
(২) তার স্ত্রী নাজমা বেগম মাদরাসার অফিস সহকারী হলেও তিনি নাকি বাড়িতে বসেই হাজিরা খাতায় সই করেন।
(৩) তার পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্য মাদরাসার বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অভিভাবক সদস্য খোরশেদ আলম জানান, “আমার দুই মেয়ে এই মাদ্রাসায় পড়ে। আমাকে হঠাৎ ডেকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে সই করতে বলা হয়। এটা ছিল একটা কৌশল তার এই অপকৌশল যা আমি পরে বুঝতে পেরে পদত্যাগ করেছি।”
ঐ এলাকার ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, “গোপনে অসৎ উদ্দেশ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।”
এদিকে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন জানান, অধ্যক্ষের কক্ষের চাবি ও কমিটির সব নথিপত্র সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলামের কাছেই থাকে।
সভাপতির বক্তব্য এবং প্রশাসনের ভূমিকা :-
সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “মাদরাসার নাম দুইবার পরিবর্তন করা হয়েছে, তিনবার নয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হয়েও এখানে সভাপতি হওয়া নিয়মসিদ্ধ। যারা পদত্যাগ করেছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।”
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানিয়েছেন, “কমিটি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়দের দাবি :-
স্থানীয়রা এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে একটি স্বচ্ছ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি সভাপতি হিসেবে মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও সুপার মনিরুজ্জামানকে অপসারণ করা না হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলন করবেন।
এদিকে, মাওলানা আমিনুল ইসলাম আর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওই সময় এলাকাবাসীর সর্বস্তরের জনগণের অংশ গ্রহনে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী সৈয়দ আহমেদ দুলাল, কামরুল আহসান মজুমদার, মমতাজ উদ্দিন ভূঁইয়া, শাহ আলম খান, বাবুল হোসেন পাটোয়ারী, গিয়াস উদ্দিন মিয়াজী, লিপন, মনির হোসেন, রুহুল আমিন পাটোয়ারী, কিরণ মুন্সি, মোশারেফ মেম্বার, হেলাল মুন্সী, সাগরসহ বহু অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।






