কর্মীদের রোষে আওয়ামী লীগের ১০০ নেতা

কর্মীদের রোষে আওয়ামী লীগের ১০০ নেতা

কর্মীদের রোষে আওয়ামী লীগের ১০০ নেতা

দূর্বার নিউজ ডেস্কঃ ‘বাগে পেলে মারব তারে’ আবহমান বাংলার এ বাগধারা হয়তো আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষোভের ভাষা। ক্ষমতা যখন হাতিয়ার তখন পতন হলো তার শেষ পরিণতি। পতিত আওয়ামী লীগের ‘ক্ষমতার দাপটে’ দেশের মানুষ ছিল জর্জরিত। দলটির নেতারা করেছেন যা-তা। আর কর্মী-সমর্থকরা তখনো বঞ্চিত, এখনো আক্রান্ত। তবে অন্য কেউ নয়; আওয়ামী লীগের ১০০ নেতাকে খুঁজছেন খোদ দলটির কর্মী-সমর্থকরাই।

তারা বলছেন, দলকে স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদী তকমা নিতে হয়েছে ওই ১০০ নেতার কারণে। দুর্নীতি-লুটপাট, পদ ও মনোনয়ন-বাণিজ্য এবং স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির জন্য দলটি খাদের কিনারে। এখন ওইসব নেতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকরা কড়ায়-গ-ায় হিসাব বুঝে নিতে চান। শুধু তাই নয়, ওইসব নেতাকে লাঞ্ছিত করার রোষে আক্রোশে রয়েছেন তারা। কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, দল ও সরকারকে ডোবানোর কারিগর মূলত ১০০ নেতা। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের রাম-রাজত্বের রাজনীতিও দলকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ বিচারের মুখে। সন্ত্রাসী আইনে দলের কার্যক্রমও এখন নিষিদ্ধ।

কার্যক্রমহারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অন্তত ৩৫০ যোগাযোগমাধ্যম খুলেছেন। এর মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমো, টেলিগ্রাম, সিগন্যালও রয়েছে। এসব যোগাযোগমাধ্যমে চিহ্নিত ওই ১০০ নেতার নামের তালিকা ভেসে বেড়াচ্ছে। এসব গ্রুপে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও যুক্ত রয়েছেন।
১০০ নেতার বিরুদ্ধে থাকার পেছনে মূলত যেসব কারণ উল্লেখ করেছেন কর্মী-সমর্থকরা। তার মধ্যে রয়েছে আর্থিক লেনদেনে দলীয় পদ বিক্রি করা, কর্মী-সমর্থকদের মূল্যায়ন না করা, টাকার বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াতের অনুসারীদের দলে ভেড়ানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য-চাকরিতে সুযোগ করে দেওয়া। সম্মেলন বাদ দিয়ে প্রেস রিলিজনির্ভর কমিটি দেওয়া। বেফাঁস কথা বলা।

গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের করুণ পরিণতির মূল কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করেন দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদক। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের ২৫টি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে তার কথা হয়। তারা কেউ ক্ষমতার আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনীতি করার সুযোগ পাননি। অথচ ‘কিছু না করে’, ‘না পেয়ে’ কচুরিপানার মতো ভেসে বেড়াচ্ছেন।

এ ছাড়া ৫ আগস্ট-পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুরবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আইনজীবী, চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, দিনমজুর এমনকি বেকার জীবন কাটাচ্ছেন এমন লোকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারাও কর্মী-সমর্থকদের মতো দলটির দোষত্রুটি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে দেড় যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। কর্মী-সমর্থক বলছেন, আওয়ামী লীগকে এ পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে এমন ১০০ নেতাকে তারা চিহ্নিত করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন দেড় ডজন কেন্দ্রীয় নেতার নাম।
চিহ্নিত ১০০ নেতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে অজনপ্রিয় কাদেরকে তিনবার দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে দলকে ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি বরণ করতে হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, দুর্নীতি-লুটপাট, পদবাণিজ্য, মনোনয়নবাণিজ্য, সিন্ডিকেটনির্ভর রাজনীতি, বেসামাল বক্তব্য-বিবৃতি ও কর্মী-সমর্থকদের দূরে সরিয়ে রাখার তুঘলকি রাজনীতি করে ৭৬ বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছেন ওবায়দুল কাদের।

যদিও কলকাতা থেকে পরিচালিত ‘দ্য ওয়াল’ নামে একটি সাইটে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, ‘আমি চাঁদা খাইনি, পদবাণিজ্য করিনি, কমিশন নিইনি।’ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রথম মুখ খুললেন কাদের, যা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তালিকার শুরুর দিকে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে দল ও সরকারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন এ প্রভাবশালী নেতা। সরকারে না থাকলেও তার কথা শুনতে হয়েছে সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের। তালিকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, হাছান মাহমুদ, দীপু মনি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আহমেদ হোসেন প্রমুখ।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ‘টাকার কাছে সব জায়েজ’ এমন রাজনীতি করেছেন। আমাদের অঞ্চলের মানুষ তাকে ‘বস্তা স্বপন’ বলেই বেশি চেনেন। দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনকে কর্মী-সমর্থকরা চেনেন ‘এক হাতে টাকা আরেক হাতে পদ’ দেওয়া নেতা হিসেবে। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনির বিরুদ্ধে অভিযোগ কর্মী-সমর্থকদের দূরে থাকতে মন্ত্রণালয়ে অফিস করতেন না তিনি। তার আপন ডাক্তার ভাইয়ের চোখে ভালোমন্দ বিচার করতেন ও রাজনীতি করতেন তিনি।

বিপ্লব বড়ুয়া, সেলিম মাহমুদ, আবদুস সোবহান গোলাপ সবসময় দলীয় প্রধানের আশপাশে থাকার সুযোগ পাওয়ায় ‘মুই কী হনুরে’ ভাব নিয়ে থাকতেন। ফলে মাঠের রাজনীতির করুণদশা টের পাননি শেখ হাসিনা।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এএইচএন আশিকুর রহমান, বিএম মোজাম্মেল হক, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (পরিবার), সাখাওয়াত হোসেন শফিক ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত। কেন্দ্রীয় এসব নেতার বিরুদ্ধে পদ বিক্রি, দলীয় কর্মীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, সময় না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।
কেন্দ্রীয় এসব অনেক নেতার বিরুদ্ধে কর্মী-সমর্থকদের জেল-জুলুম খাটিয়েছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, একসময় দলের ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে উল্টো বিএনপি-জামায়াতের কর্মী-সমর্থককে দলে ভিড়িয়েছেন। টাকার বিনিময়ে অন্য দলের নেতাকর্মীকে কাছে টেনে ব্যক্তিরাজনীতি শক্তিশালী করার অপরাজনীতি করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় এসব নেতা অন্য দলের নেতাকে আওয়ামী লীগ সাজিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করেছেন।

কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী ও এমপিরা দলে হাইব্রিড নেতা আমদানি শুরু করে। এরপর পদ-পদবি তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এখন ওইসব হাইব্রিড রপ্তানি হয়ে যার যার পুরনো জায়গায় চলে গেছেন। এ কাজগুলো বেশি করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতারা।

একশর তালিকায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন নসরুল হামিদ বিপু, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, জুনায়েদ আহমেদ পলক।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নওফেলের নাম দিয়েছেন ‘প্লিজ টেক্সট’। তাকে ফোন করলেই ফিরতি বার্তা পাওয়া যেত ‘প্লিজ টেক্সট’। ‘প্লিজ টেক্সট’ নিয়ে চট্টগ্রামের প্রায় সব নেতাই বিরক্ত। জাতীয় পর্যায়ের দলের অনেক নেতাও একই কারণে বিরক্ত।

সরকার পতনের পর পলক কারাগারে গেলেও কর্মী-সমর্থকের ক্ষোভ কমছে না। একইরকম ক্ষোভ দেখা গেছে ফরহাদ হোসেন, আনিসুল হক, তাজুল ইসলাম, মন্ত্রী পদমর্যাদার সালমান এফ রহমান, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী (পরিবার), আসাদুজ্জামান খান কামাল, র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, নাজমুল হাসান পাপন, মুহিবুর রহমান, টিপু মুনশি, স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে।
এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সুযোগ না দিতে নানা টালবাহানা করলেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কাজকর্মে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সামনাসামনি হলে কর্মী-সমর্থকদের ‘হাইকোর্ট’ দেখাতেন তারা। বিপু ও পলকের বিএনপি-জামায়াত করা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য থাকা ও তাদের ঠিকাদারি ব্যবসায় সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়ার কথা শোনা যায়।

সংসদ সদস্যদের (এমপি) মধ্যে একশর তালিকায় রয়েছেন নিজাম উদ্দীন হাজারী, এনামুল হক শামীম, মাহাবুব আরা গিনি, শাহরিয়ার আলম, ডা. হাবিবে মিল্লাত, শামসুল হক টুকু, আলী আজগর, শফিকুল আজম, আ ফ ম রুহুল হক, জাহিদ ফারুক, রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক, আফজাল হোসেন, জাহেদ মালেক স্বপন, মমতাজ বেগম, জাহিদ আহসান রাসেল, জিল্লুল হাকিম, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আবু জাহির, ইকবালুর রহিম, শফিকুল ইসলাম শিমুল, গোলাম ফারুক খোন্দকার প্রিন্স, শাহিন চাকলাদার, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ তন্ময়, আবদুস সালাম মুর্শেদী, আ স ম ফিরোজ, নুরুন্নবী চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, হাসানাত আবদুল্লাহ, বজলুল হক হারুন, ছোট মনির, আহসানুল হক টিটু, ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শামীম ওসমান, নূর-ই-আলম চৌধুরী, মুহিবুর রহমান মানিক, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মামুনুর রশীদ কিরন, একরামুল করিম চৌধুরী, নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন, সাইমুম সরওয়ার কমল, বীর বাহাদুর উ শে শিং, নুরুল ইসলাম সুজন, আবদুল ওদুদ, ওমর ফারুক, চয়ন ইসলাম, মকবুল হোসেন, সোলেয়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন, আলী আজগর, শেখ আফিল উদ্দিন, বিএম কবিরুল হক। আছেন শেখ পরিবারের একাধিক সদস্যও। কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নামও উঠে এসেছে এই তালিকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচার, রাজনীতি করতে না পারা, রাজনীতিতে সিন্ডিকেট সৃষ্টি করা ও চাকরিবাকরি পদ-পদবি বিক্রি করার মতো ঘোরতর অভিযোগ রয়েছে কর্মীদের। গত দেড় দশকের রাগ-ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়ে আছে নেতাদের বিরুদ্ধে। সেসব নেতার সঙ্গে হিসাব মেলানোর অপেক্ষা করছেন দলের বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, তাদের এমন আচরণ দলের অনুসারীরাই নয়, সেবা নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষকেও বিরক্ত করতেন। সেসব কর্মী-সমর্থক দাবি করেন, সাংগঠনিক রীতিতে দল পরিচালনা না করে ব্যক্তি রীতিনীতিতে দল পরিচালনা করা হতো। এর মাশুল আর কেউ নয়, দলের কর্মী-সমর্থকরাই বুঝে নেবে।

এই একশ নেতাকে দেখামাত্রই শায়েস্তা করা হবে এমন ক্ষোভের কথা শুধু দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরাই বলছেন না, এই তালিকায় রয়েছেন প্রশাসন ও পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তাও। প্রশাসন ক্যাডারের এক কর্মকর্তা অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি নিজে সুযোগ পেলে আমার আক্রোশে পড়তে হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াকে। তাতে চাকরি থাকুক বা না থাকুক।’

আওয়ামী লীগের কর্মী শেরপুর নালিতাবাড়ী উপজেলার এক দিনমজুর (নাম প্রকাশ করা হলো না) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ইচ্ছা আছে দরবেশ বাবাকে পেলে (সালমান এফ রহমান) মনে ঝাল মিটাতাম।’ যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্তত ১০ জন আমার ক্ষোভ থেকে রেহাই পাবেন না। আর ওবায়দুল কাদের যেন দেশেই না ফিরতে পারে।’
শুধু নালিতাবাড়ী উপজেলার ওই দিনমজুর নন, কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, সালমান এফ রহমানের আধিপত্য দল ও সরকার দুটোকেই অন্তঃসারশূন্য করে তুলেছে। দল কাকে মনোনয়ন দেবে না দেবে সেটাও নির্ধারণ করতেন তিন। ফলে ফুলটাইম রাজনীতিবিদরাও এই দলে কোনো জায়গা পাননি। তার কারণে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নেতারা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল ভাবতেন না। টাকার মেশিন মনে করা শুরু করেন।

এ তালিকায় কমপক্ষে ২০ নেতা রয়েছেন কর্মী-সমর্থকদের ‘হিট লিস্টে’। এই ২০ নেতা সবার কাছে জাতীয় শত্রুতে পরিণত হয়েছে। কর্মীদের সামনে পড়ামাত্র জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো রাগ-ক্ষোভ ভেতরে পুশে রেখেছেন আওয়ামী লীগের লাখো কর্মী-সমর্থক। অনেকেই বলছেন, বিএনপি-জামায়াত বা ছাত্ররা কিছু না করলেও, তাদের ব্যাপারে আমাদের করণীয় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিচার্স ইনস্টিটিউশনে (সিআরআই) কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাজ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এমন একজন নারী শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দীপু মনি, আবদুস সোবহান গোলাপ, বিপ্লব বড়ুয়া, সেলিম মাহমুদ, নসরুল হামিদ বিপু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলাল, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, নিক্সন চৌধুরী, শেখ তন্ময়, শেখ জুয়েল, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলে শামস পরশের দেখা পেলে হিসাব চুকিয়ে নেব।’

সিআরআইতে কাজ করে নিজের পারিশ্রমিক লোপাট করা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তন্ময়কে কখনো ক্ষমা করবেন না বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সমর্থক। তিনি বলেন, শেখ তন্ময় সিআরআইতে বসে লুটপাট করেছে। এদের কোনো ক্ষমা নেই।

ফেনী জেলার সাবেক যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন হাজারির অপকৌশল তুলে ধরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফেনীতে গত ১৫ বছর শাসনেও ছিল বিএনপিও-জামায়াত নেতাকর্মীরা। আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফেনী ছাড়া থাকতে হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের আরেক নেতা একরাম হোসেনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।’

সাখাওয়াত আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছরে অসংখ্যবার আমার বাড়ি পোড়ানো হয়েছে। শেষবার ২০২৪ সালের প্রথম দিকে যখন আবার বাড়ি পোড়ানো হয়, তখন আমার মা কষ্ট নিয়ে আমাকে অনুরোধ করেন, বাড়ি আর রিপেয়ারিং করিস না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়লে তারপর ঠিক করব।’ তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের জন্য এ পরিণতির মুখোমুখি পড়তে হয়েছে আওয়ামী লীগকে।’

ঢাকার সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে নিয়ে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে থাকা এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাপসের গোঁয়ার্তুমিতে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঢাকার ওয়ার্ড কমিটি পর্যন্ত তার কনসার্ন লাগবে! কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো ভূমিকা থাকত না।’

এ নেতা আরও বলেন, ‘ঢাকার রাজনীতি ধ্বংসের মূল কারণ তাপস ও তার আরেক ভাই যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। পরিবার ও ব্যক্তিগত পছন্দের মোহে ঢাকার রাজনীতি দুর্বল হয়েছে। তাদের দুই ভাইয়ের প্রতি প্রায় সব কর্মী-সমর্থকের অভিযোগ আছে। সময়-সুযোগ পেলে দলের কর্মী-সমর্থকরাই হিসাব বুঝে নেবে।’

ছাত্রলীগের সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক রাজেস চন্দ্র সিংহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শেষ কয়েক বছর সাংগঠনিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দলীয় প্রতীক দলকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বিক্রি হয়েছে মুড়ি-মুড়কির মতো। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক। ছাত্রলীগেই ঘটেছে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ। পারিবারিক রাজনৈতিক আদর্শ যাচাই-বাছাই না করে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের রাগ-ক্ষোভ থাকতেই পারে। সব নেতা সব ঠিক করেছেন আবার সব খারাপ করেছেন এটা বলা যাবে না। ফলে কর্মী-সমর্থকদের নানান দুঃখ-কষ্ট থাকবেই। এগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখি আমরা।’
সৌজন্যে : দৈনিক দেশ‌ রূপান্তর
তারিখ : ২৮ মে’২০২৫ ইং,বুধবার।

ভাইরাল রিলের বিতর্ক পেরিয়ে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিউটি রানী পাল

কর্মীদের রোষে আওয়ামী লীগের ১০০ নেতা

ভাইরাল রিলের বিতর্ক পেরিয়ে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিউটি রানী পাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল থেকে স্বীকৃতির মঞ্চে; ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষকতা, আনন্দঘন পাঠদান ও সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি : একটি গান, একটি রিল ভিডিও, তারপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও ট্রল। ঘটনাটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছিল ভার্চুয়াল জগতে। নানা মন্তব্য আর সমালোচনার মধ্যে একসময় ভিডিওটি সরিয়ে নিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই বিতর্কের কয়েক মাস পরই সামনে এলো তাঁর শিক্ষকতা জীবনের আরেকটি পরিচয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাকে পেছনে ফেলে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন বিউটি রানী পাল।

তিনি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের বাছাই প্রক্রিয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্য থেকে চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁদের একজন বিউটি রানী পাল।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর স্বাক্ষর করা একটি স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষকদের নাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে বিউটি রানী পালের নাম ছিল না।

যে রিল ঘিরে আলোচনাঃ

চলতি বছরের ২৩ জুলাই ‘ডিফরেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় একটি গানের কয়েকটি লাইন ব্যবহার করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন বিউটি রানী পাল। ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’—গানের এই অংশ ব্যবহারের পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটির সঙ্গে নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে তা প্রচার করা হলে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও ট্রল। সাইবার বুলিংয়ের মুখে একপর্যায়ে ভিডিওটি সরিয়ে নেন তিনি।

তবে ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কেবল একজন শিক্ষককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকার শত শত নারী শিক্ষক একই গানের সঙ্গে নিজেদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। শিক্ষক সমাজের এমন অভিনব প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও সংহতি প্রকাশ করেন।

ফলে একটি ব্যক্তিগত রিল ভিডিওকে ঘিরে শুরু হওয়া ঘটনা পরিণত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী শিক্ষকদের প্রতি আচরণ, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও অনলাইন হয়রানি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনায়।

বিতর্কের বাইরে অন্য এক পরিচয়ঃ

তবে বিউটি রানী পালের শিক্ষকতা জীবনের গল্প শুরু হয়নি ওই রিল ভিডিও দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত তিনি। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ২০১৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন।

শিক্ষকতা জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি সৃজনশীল নানা কৌশল ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন তিনি। আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শরীরচর্চা এবং নাচের ছন্দে পড়াশোনাকে সহজ করে তোলার মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এসব উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
এর আগেও তিনি একবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো জেলা পর্যায়ের এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বনাম শ্রেণিকক্ষঃ

বিউটি রানী পালের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। অনলাইনে কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও যেমন দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তেমনি সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মন্তব্য বা প্রচারণাও মুহূর্তে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে একজন শিক্ষকের প্রকৃত কাজের পরিধি অনেক দীর্ঘ। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, তাদের আগ্রহ তৈরি করা, শেখার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার মূল্যায়ন একটি রিল ভিডিওর কয়েক মিনিটের দৃশ্য দিয়ে করা সম্ভব নয়।

বিউটি রানী পালের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঘটনা তাঁকে আলোচনায় এনেছিল। কিন্তু জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের কাজ ও অবদানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্বীকৃতি কি বদলে দেয় আলোচনার ভাষা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর মানুষ দ্রুত মতামত দেয়। সেখানে প্রেক্ষাপট, দীর্ঘমেয়াদি কাজ কিংবা একজন ব্যক্তির সামগ্রিক পরিচয় অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। বিউটি রানী পালের ঘটনাতেও প্রথমে সামনে এসেছিল একটি রিল ভিডিও। পরে সামনে এসেছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন এবং শ্রেণিকক্ষে সৃজনশীল পাঠদানের বিষয়টি।

জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার তথ্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই ব্যক্তিকে ঘিরে একদিকে যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে, অন্যদিকে তাঁর পেশাগত কাজের স্বীকৃতিও রয়েছে—দুটি বাস্তবতাই পাশাপাশি রয়েছে।

শিক্ষকের পরিচয় শ্রেণিকক্ষেইঃ

একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর শ্রেণিকক্ষের কাজ—শিক্ষার্থীদের শেখানো, তাদের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। বিউটি রানী পালের ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার বাইরে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের এই দিকটিই এখন নতুন করে সামনে এসেছে।

২০১৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এই পেশায় রয়েছেন। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার স্বীকৃতিও পেয়েছেন একাধিকবার।

একটি রিল তাঁকে পরিচিত করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে; আর শিক্ষকতার দীর্ঘ পথ তাঁকে এনে দিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিউটি রানী পালের গল্পটি যেন মনে করিয়ে দেয়—ভার্চুয়াল জগতের কয়েক মুহূর্তের আলোচনার চেয়ে একজন শিক্ষকের দীর্ঘদিনের কাজ ও শিক্ষার্থীদের ওপর তার প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত ও স্থায়ী।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেবে সরকার; ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন, শেষ সময় ১৫ অক্টোবর

কর্মীদের রোষে আওয়ামী লীগের ১০০ নেতা

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেবে সরকার; ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন, শেষ সময় ১৫ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ অনুদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও শিক্ষা উপকরণ উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা এবং অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে এ অনুদান দেওয়া হবে।

এবার অনলাইনের পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির মাধ্যমে সুপারিশকৃত আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পৌঁছাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিচালন বাজেটের আওতায় বিশেষ অনুদান হিসেবে বরাদ্দ অর্থ বিতরণের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকার অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে খাতে দেওয়া হবে অনুদান:

বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নে বিশেষ অনুদান দেওয়া হবে।

এ ছাড়া বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনাজনিত কারণে আর্থিক সহায়তার জন্যও আবেদন করা যাবে।

অগ্রাধিকার পাবেন যেসব শিক্ষার্থীঃ

সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, মেধাবী, এতিম, অদম্য মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরাও অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবেন।

দেশের উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদেরও বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
যেভাবে করতে হবে আবেদনঃ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুদান পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত ফরমে আবেদন করবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে করতে হবে। আর স্নাতক বা সমমান এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে জমা দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রার আবেদনগুলো গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে একত্র করবেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।

অনলাইন ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাতে দ্বৈতভাবে সুপারিশ না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এ জন্য জেলা কমিটি আগে অনলাইনে সুপারিশ করা তালিকার সঙ্গে নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া আবেদনসমূহ সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবে।

নির্ধারিত আবেদন ফরম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট www.shed.gov.bd-এ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট থেকেও ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

সময়সীমা ১৫ অক্টোবরঃ

প্রতিষ্ঠান প্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাওয়া আবেদন জেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করবে। সুপারিশকৃত তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর পৌঁছাতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

শিক্ষার সুযোগ ও সহায়তা যেন কেবল শহর কিংবা সুবিধাভোগী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে—বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে সরকারি সহায়তার সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে বিজ্ঞপ্তির তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়।

অগ্নিঝরা প্রীতিলতা: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম বাঙালি নারী শহীদ

কর্মীদের রোষে আওয়ামী লীগের ১০০ নেতা

অগ্নিঝরা প্রীতিলতা: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম বাঙালি নারী শহীদ

—— মানিক লাল ঘোষ ——
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে যে কজন বিপ্লবীর নাম সাহস, আত্মত্যাগ ও দুর্জয় প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে আছে, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তাঁদের অন্যতম। তিনি শুধু একজন বিপ্লবী নারী ছিলেন না; ছিলেন এমন এক সময়ের অদম্য কণ্ঠ, যখন ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, নারীর জন্য প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ ছিল নানা বাধায় পরিপূর্ণ। মাত্র ২১ বছরের জীবনে প্রীতিলতা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা আজও উপমহাদেশের ইতিহাসে গভীরভাবে স্মরণীয়।
২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর শহীদ হওয়ার দিন। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে—যিনি স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নিজের জীবনের চেয়েও বড় করে দেখেছিলেন।
১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জন্ম। তাঁর বাবা জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রাম পৌরসভায় চাকরি করতেন এবং মা প্রতিভাময়ী দেবী ছিলেন গৃহিণী। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হলেও ছোটবেলা থেকেই প্রীতিলতা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও মননশীল।
চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯২৭ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার ইডেন কলেজে ভর্তি হন। ১৯২৯ সালের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ম ও মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। পরে কলকাতার বেথুন কলেজে দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের এই অসাধারণ সাফল্য প্রমাণ করে, প্রীতিলতা কেবল সাহসী বিপ্লবীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন গভীর মননশীল ও মেধাবী নারীও।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি চট্টগ্রামে ফিরে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। নন্দনকানন অপরনাচরণ স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেন এবং পরে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্বও পালন করেন। একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশাজীবন তাঁর সামনে উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু দেশের পরাধীনতা, ঔপনিবেশিক শোষণ এবং বৈষম্যের বাস্তবতা তাঁকে অন্য এক পথে টেনে নেয়।
ছাত্রজীবন থেকেই প্রীতিলতার মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হতে থাকে। ঢাকায় পড়াশোনার সময় তিনি দীপালি সংঘের সঙ্গে যুক্ত হন—যে সংগঠনের মাধ্যমে নারীদের শারীরিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে তিনি চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন।
চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তাঁর জীবনে আসে নতুন অধ্যায়। বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ তখন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবু প্রীতিলতা ধীরে ধীরে সংগঠনের আস্থা অর্জন করেন। গোপন যোগাযোগ, বিপ্লবীদের সহায়তা, সংবাদ ও প্রচারপত্র পৌঁছে দেওয়া, বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে তিনি অংশ নেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি শুধু একজন সহযোগী নন, গুরুত্বপূর্ণ একজন সংগঠক ও নেতৃত্বদানের যোগ্য বিপ্লবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৯৩২ সালে ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলন তখন চট্টগ্রামে তীব্রতর। এরই মধ্যে পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিকল্পনা করা হয়। ঔপনিবেশিক সমাজব্যবস্থায় ক্লাবটি ছিল ইউরোপীয়দের সামাজিক আধিপত্য ও বর্ণবৈষম্যের একটি প্রতীক। ক্লাবটির প্রবেশপথে থাকা ‘Dogs and Indians not allowed’ ধরনের বর্ণবাদী বার্তা ভারতীয়দের প্রতি ঔপনিবেশিক অবজ্ঞার নির্মম প্রকাশ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
এই ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র আক্রমণের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত প্রীতিলতার ওপর অর্পিত হয়। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে, যা ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহর পর্যন্ত গড়ায়, তিনি বিপ্লবীদের একটি দল নিয়ে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করেন। পুরুষের ছদ্মবেশে তিনি দলের নেতৃত্ব দেন। বিপ্লবীরা ক্লাবে হামলা চালায় এবং ভবনের অংশবিশেষে আগুন ধরিয়ে দেয়। অভিযান শেষে ফিরে আসার সময় ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে প্রীতিলতা আহত হন এবং একপর্যায়ে তিনি বিচ্ছিন্ন ও ঘেরাও হয়ে পড়েন।
প্রীতিলতা জানতেন, ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হতে পারে এবং তাঁর সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তাও বিপন্ন হতে পারে। বিপ্লবীদের মধ্যে বন্দিত্ব এড়ানোর জন্য সায়ানাইড বহনের পরিকল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। পরবর্তী ময়নাতদন্তে জানা যায়, গুলির আঘাতটি প্রাণঘাতী ছিল না; সায়ানাইড বিষক্রিয়াই তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল।
প্রীতিলতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি জীবন থেমে গেলেও তাঁর আদর্শ ও আত্মত্যাগের ইতিহাস থেমে যায়নি। তিনি হয়ে উঠলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাঙালি নারীর সাহস ও আত্মত্যাগের এক শক্তিশালী প্রতীক। সমকালীন ও পরবর্তী ইতিহাসচর্চায় তাঁকে বাংলার প্রথম নারী শহীদদের অন্যতম হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।
প্রীতিলতার জীবনকে শুধু তাঁর মৃত্যুর ঘটনা দিয়ে বিচার করলে তাঁর সংগ্রামের পূর্ণতা ধরা পড়ে না। একজন মেধাবী ছাত্রী থেকে শিক্ষক, শিক্ষক থেকে বিপ্লবী সংগঠক এবং শেষ পর্যন্ত একটি সশস্ত্র অভিযানের নেত্রী—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমাই তাঁর জীবনের প্রকৃত তাৎপর্য।
আজকের দিনে প্রীতিলতাকে স্মরণ করার অর্থ শুধু অতীতের একজন বিপ্লবীকে শ্রদ্ধা জানানো নয়; তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া যে, শিক্ষা, আত্মমর্যাদা, সাহস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ—এই মূল্যবোধগুলো একজন মানুষকে ইতিহাসের অংশ করে তুলতে পারে। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, আর তাঁর স্মৃতি অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানবিক সমাজ নির্মাণের প্রেরণা হয়ে থাকতে পারে।
বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন অগ্নিঝরা এক জীবন, যার দীপ্তি মাত্র ২১ বছরের আয়ুতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর নাম আজও উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও গভীর আবেগে।
শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের পবিত্র স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)