৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক মোজাফফর হোসেন ডিবির হাতে আটক, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক মোজাফফর হোসেন ডিবির হাতে আটক, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
দূর্বার নিউজ ডেক্স : চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসের এক বহুল আলোচিত অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি নাম অবশেষে ফিরে এলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবি জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে হস্তান্তর করা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আগের দিন তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটনাটি অন্যতম আলোচিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. মোজাফফর হোসেনের নামও উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে সামরিক আদালতের বিচারে একাধিক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়। তবে মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন সময় ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম ও অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর অবশেষে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে আটক করা হয়।
দীর্ঘদিনের পলাতক এক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির গ্রেপ্তারকে সংশ্লিষ্টরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে ১৯৮১ সালের সেই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড আবারও নতুন করে জনআলোচনায় উঠে এসেছে।






