শাহরাস্তির হাড়াইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি
শাহরাস্তির হাড়াইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ একটি শিশুর বিদ্যালয় হওয়া উচিত নিরাপত্তা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার ঠিকানা। অথচ চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের হাড়াইরপাড়া গ্রামের ৭৬ নম্বর হাড়াইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ অবকাঠামোগত সংকট, অনিরাপদ পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের অবহেলার ভার বয়ে চলেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার অধিকার আজ যেন প্রশ্নের মুখে।
১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারিকরণের আওতায় এলেও এরপর আর নতুন কোনো একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়নি। বর্তমানে পুরোনো ভবনটি এতটাই জরাজীর্ণ যে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে মাত্র তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি দোচালা টিনের ঘরে, যেখানে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও আধুনিক শিক্ষা-সুবিধার চরম অভাব রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও ব্যবহার অনুপযোগী। শিশুদের খেলাধুলার জন্য নেই কোনো মাঠ। সংকুচিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা ও অনুপযুক্ত পরিবেশের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হারও কমে যাচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১০৪ জন। তবে পরিদর্শনের দিন উপস্থিত ছিল মাত্র ৬৯ জন। সীমিত অবকাঠামোর কারণে বিদ্যালয়টি দুই শিফটে পরিচালিত হচ্ছে, যা শিক্ষার মান উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে আশার খবরও রয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি সংরক্ষিত আছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে জমির একটি অংশ ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। প্রয়োজন শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক উদ্যোগ ও দ্রুত বরাদ্দ।
এদিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রধান সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিদ্যালয়, নুরানী ও হাফেজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও টেকসইভাবে নির্মাণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকদের একটাই প্রত্যাশা—আর নয় আশ্বাস, এবার কার্যকর উদ্যোগ। অবিলম্বে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও শিশুবান্ধব একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ওয়াশ ব্লক সংস্কার, খেলার মাঠের ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়ের যাতায়াত সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ, একটি বিদ্যালয়ের ভাঙা দেয়াল শুধু ইট-সুরকির ক্ষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকেও ক্ষয় করে। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হাড়াইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সব অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।






