সম্প্রীতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক: গাইবান্ধায় প্রস্তাবিত রামমূর্তি ঘিরে কুড়িগ্রামে প্রতিবাদ
সম্প্রীতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক: গাইবান্ধায় প্রস্তাবিত রামমূর্তি ঘিরে কুড়িগ্রামে প্রতিবাদ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বাংলাদেশের বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতি ও বহু পরিচয়ের মানুষের সহাবস্থানের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বরাবরই একটি মূল্যবান ভিত্তি। সেই প্রেক্ষাপটে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রস্তাবিত ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে জনপরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে কেউ এটিকে ধর্মীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন সংগঠন এটিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছে।
এই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা, কুড়িগ্রাম’। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা দাবি করেন, দেশের সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে প্রস্তাবিত মূর্তি নির্মাণের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সমাবেশে সংগঠনটির সমন্বয়ক আখম আশরাফুর রহমানসহ শাহিনুর রহমান, মনজুরুল হক, আহমেদ তালুকদার ও রাসেল মিয়া বক্তব্য দেন। তারা বলেন, প্রতিবেশী অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশেও যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের মতে, ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল যেকোনো বড় উদ্যোগ গ্রহণের আগে স্থানীয় জনমত, আইনগত বিষয় এবং সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বক্তারা আরও দাবি করেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অবিলম্বে স্থগিত রেখে এর প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অর্থায়নের উৎস তদন্ত করা উচিত। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন যেকোনো বিতর্কিত বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে জনমনে আস্থা বজায় রাখা।
সমাবেশে প্রস্তাবিত মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হরিদাস চন্দ্র তরণীদাসের বিরুদ্ধেও কয়েকটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বক্তারা দাবি করেন, তিনি অতীতে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পাশাপাশি বর্তমান প্রকল্পের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও এই প্রতিবেদনের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা সংশ্লিষ্ট যেকোনো ইস্যুতে সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বজায় রাখার গুরুত্ব বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই তুলে ধরছেন। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা, তথ্য যাচাই করা এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সামাজিক সম্প্রীতি ও জনআস্থা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
এই প্রতিবেদনটি দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল বা যুগান্তরের ফিচারধর্মী সংযত সাংবাদিকতার ভাষাশৈলী অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।






