ধর্ম ত্যাগ করিয়ে বিয়ে, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা বড়াইল ইউনিয়নের হিন্দু সনাতন ধর্মের মন্জু রানী নামে বিধবা দুই সন্তানের জননীকে ধর্মান্তরিত করার মাধ্যমে বিয়ে করা পর যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিয়ের পর নওমুসলীম স্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকার আত্নসাত করে এবং পরবর্তীতে আরো ৫ লক্ষ টাকার যৌতুকের দাবি করছে। ভিক্টিম মহিলার অভিযোগ করেন, আমার পাশের একই এলাকা গোসাইপুর বসবাস করেন তিনি। ২০২১ সালের প্রথম দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের গোসাইপুর এলাকার মৃত আঃ হাফিজ এর ছেলে মোঃ রুস্তম আলী/রুস্তমের সাথে শ্রমিক লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে পরিচয় হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে সভা সমাবেশের মাধ্যমে যাওয়া আসা হয় তার সাথে। এক পর্যায়ের আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি ওমান থেকে ফেরত আসার সময় আমার জমানো টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারে বিষয়ে সে জানতে পারে। ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক থাকার কারনে আমরা উভয়ের বাড়িতে প্রায় সময়ই আসা যাওয়া হত এবং অর্থ আত্নসাৎ করার উদ্দেশ্যে মুসলিম হয়ে যাওয়ার জন্য নানা প্রকার ছলচাতুরি ও ফুসলাতে থাকে। এরই মধ্যে সে আমার কাছে থেকে দুই লক্ষ টাকা কর্জ নেয়। পরে আমাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমিও তার কথায় সরল মনে বিশ্বাস করতে থাকি। আমি আবার দ্বিতীয় বারের মত দুই লক্ষ টাকা কর্জ দেয় এবং সে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করে খরচ করে ফেলে। ভিক্টিম মহিলা আরো জানান, আমাদের মাঝে এভাবে কয়েক মাস চলার পর রুস্তম আমাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করতে নানা ভাবে ফসুলাতে থাকে। আমিও তার কথা সরল মনে বিশ্বাস করে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হওয়ার জন্য মনস্থির করি। তার কিছুদিন পর সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে এক মৌলভীর দ্বারা মুসলিম হয় এবং এভিডেভিটের মাধ্যমে নোটারি কার্যালয় হতে ৫০ হাজার টাকা মোহরানা ধার্য্য করে বিবাহ করি। বিবাহের কিছুদিনের মাধ্যমে আমার স্বামীর খারাপ চরিত্র ফুটে উঠে। সে দৈনিক সমিতির ব্যবসা করবে বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১০ লক্ষ টাকা নেয়। প্রবাস থেকে আসার সময় জমানো অর্থ ও স্বারণাঙ্কারসহ সব অর্থ দেওয়ার পর কিছুদিন সুন্দরভাবে সংসার করে। কিছুদিন পরে যৌতুকের দাবিতে আবার নানা অশান্তি ও নির্যাতন শুরু করেন। এ নিয়ে সে যৌতুকের মামলায় ১৫দিনের কারাভোগ করেন। পরে মিমাংসা মাধ্যমে বিষয়টা সমাধান করা হয়। তিনি আরো বলেন, মিমাংসার কিছুদিন যাওয়ার পর আবার যৌতুক বাদ ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আমাকে নিয়ে সংসার করবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে সে আমাকে অনেকবার নির্যাতন করছে এবং বার বার টাকার জন্য জোড় করছে।অপর দিকে ভোক্তভোগী মহিলার স্বামী রুস্তম আলী বলেন, আমি ওরে মুসলমান করি নাই। সে নিজের ইচ্ছে মুসলিম হয়েছে। আমাদের মাঝে যে বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে তা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে চেয়েছি কিন্তু সে সমাধানে আসে না। আমি ওর কাছ থেকে টাকা নেয়নি। তবে আমার নিজের পরিচালিত একটা দৈনিক সমিতি আছে। যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতনের বিষয়ে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার নামে সে মিথ্যা যৌতুকের মামলা করেছিল এবং কারাভোগ করেছি। কোর্টে এ নিয়ে মামলা চলছে। ভোক্তভোগী মহিলা বলেন, আমি এখন অসহায়। আমার ছেলে মেয়ে ও ভিটেমাঠি সব শেষ। আমার এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে একটাই চাওয়া। আমি যেন এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচার পায়।










